📌 যুক্তরাজ্যের একটি নারী ১১ বছর ধরে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি নিচ্ছিলেন, কিন্তু সত্য জানা গেল তিনি কখনো ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন না। মস্তিষ্কের সাধারণ প্রদাহকে ভুলভাবে ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত করে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এতে ৪০ জনেরও বেশি রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন
যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রি শহরে বসবাসকারী ৩৪ বছর বয়সী বেকি জোন্স (বর্তমানে দুই সন্তানের জননী) ১১ বছর ধরে ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোথেরাপির শিকার হন। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা যায়, তিনি কখনো ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন না। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) এর ভুল চিকিৎসার কারণে এই ঘটনা ঘটে। মস্তিষ্কের সাধারণ প্রদাহকে ক্যানসার হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করে তাকে ১১ বছর ধরে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৪ বছর বয়সী বেকি জোন্স ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১১ বছর ধরে কেমোথেরাপি নিচ্ছিলেন, কিন্তু তিনি কখনো ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন না
- 📌 মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘টিউমেফ্যাক্টিভ ডিমাইলিনেশন’-কে ভুলভাবে ‘গ্লিওব্লাস্টোমা’ (চতুর্থ ধাপের ব্রেইন ক্যানসার) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল
- 📌 চিকিৎসা নিয়ম অনুযায়ী, ‘টেমোজোলোমাইড’ (টিএমজেড) কেমোথেরাপি সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে ৬টি সেশনে দেওয়া উচিত, কিন্তু বেকিকে ১১ বছর ধরে এই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল
- 📌 ৪০ জনেরও বেশি রোগী অধ্যাপক ইয়ান ব্রাউনের অধীনে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে একজন নারী স্থায়ীভাবে বন্ধ্যাত্ব বরণ করেছেন এবং আরেকজন লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হন
- 📌 যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার ট্রাস্টের চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে এই ঘটনা ঘটে
- 📌 এনএইচএস ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের পর সব রোগীকে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং কেমোথেরাপির তত্ত্বাবধানে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বেকি জোন্স ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র মাইগ্রেনের কারণে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার (ইউএইচসিডব্লিউ) এনএইচএস ট্রাস্টে ভর্তি হন। তৎকালীন নিউরো-অনকোলজি কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ইয়ান ব্রাউন তাকে চতুর্থ ধাপের ‘গ্লিওব্লাস্টোমা’ অর্থাৎ ব্রেইন ক্যানসারের চূড়ান্ত পর্যায়ে আক্রান্ত বলে ঘোষণা দেন। অধ্যাপক ব্রাউনের এই ভুল চিকিৎসা সিদ্ধান্তের কারণে বেকিকে ১১ বছর ধরে ‘টেমোজোলোমাইড’ নামের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।
কেমোথেরাপির ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বেকি প্রায়শই বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা ও ক্লান্তি বোধ করতেন। তিনি সংক্রমণ এড়াতে আশপাশের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করেন, তাঁর ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাতিল হয়। ২০২৪ সালে চিকিৎসকের অবসরের কথা বলে হঠাৎ কেমোথেরাপি বন্ধ করা হলে বেকি জোন্স আইনগত পদক্ষেপ নেন। পরবর্তীতে নতুন করে নিউরোসার্জন ও রেডিওলজিস্টদের পরীক্ষায় জানা যায় যে, তিনি ক্যানসারে নয়, ‘টিউমেফ্যাক্টিভ ডিমাইলিনেশন’ নামের মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগে ভুগছিলেন।
অধ্যাপক ইয়ান ব্রাউনের অধীনে অন্তত ৪০ জন রোগী এমন ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন। অন্য এক নারী বিবিসিকে জানান, বছরের পর বছর ধরে ওই কেমোথেরাপি নেওয়ায় তিনি স্থায়ীভাবে বন্ধ্যাত্ব বরণ করেছেন। আরেক রোগীর অভিযোগ, টানা ১০০ সেশন অপ্রয়োজনীয় কেমোথেরাপি দেওয়ার কারণে তিনি পরবর্তীতে লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হন। রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের (আরসিপি) প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো ধরনের উপকারিতা ছাড়াই রোগীদের ধারাবাহিকভাবে এই শক্তিশালী কেমোথেরাপি দেওয়া হতো, যা হাসপাতালটির অনকোলজি ফার্মেসি দলও ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রশ্ন ছাড়া সরবরাহ করেছে।
"কোনো ধরনের উপকারিতা ছাড়াই রোগীদের ধারাবাহিকভাবে এই শক্তিশালী কেমোথেরাপি দেওয়া হতো, যা হাসপাতালটির অনকোলজি ফার্মেসি দলও ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রশ্ন ছাড়া সরবরাহ করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কভেন্ট্রি, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেকি জোন্স (৩৪), অধ্যাপক ইয়ান ব্রাউন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ বছর (কেমোথেরাপি), ৪০ জন (রোগী), ৬ মাস (সঠিক সময়সীমা), ৬টি সেশন (সঠিক সেশনের সংখ্যা), ১০০ সেশন (অপ্রয়োজনীয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!