📌 জহির রায়হানের 'বেহুলা' ছবির নায়িকা কোহিনূর আক্তার সুচন্দার জন্মদিনে দর্শকদের অসংখ্য শুভেচ্ছা ও পুরোনো সিনেমার ক্লিপের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেছেন, দর্শকের ভালোবাসা তার সবচেয়ে বড় অর্জন
জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছবির নায়িকা কোহিনূর আক্তার সুচন্দার জন্মদিন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কাটল ব্যতিক্রমীভাবে। দর্শকদের অসংখ্য শুভেচ্ছা, পুরোনো সিনেমার ক্লিপ ও বার্তা তাঁকে ঘিরে রেখেছে। ৭৯ বছর বয়সী এই অভিনয়শিল্পী বলেছেন, সময়ের সঙ্গে অভিনয় থেকে দূরে সরে গেলেও দর্শকের ভালোবাসা তার কাছে একটুও কমেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মদিনে সুচন্দার কাছে ফোন ও বার্তা আসতে থাকে মধ্যরাত থেকে; দর্শকরা পুরোনো সিনেমার ক্লিপ শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানান
- 📌 ১৯৪৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণকারী সুচন্দা শৈশব কাটান যশোরে, পরে ঢাকায় চলচ্চিত্রে পা রাখেন
- 📌 জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছবির মাধ্যমে সুচন্দা হয়ে ওঠেন সময়ের আলোচিত নায়িকা; রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন ‘আনোয়ারা’, ‘জুলেখা’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে
- 📌 ১৯৬৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিজের জন্মদিনেই জহির রায়হানকে গোপনে বিয়ে করেন; দাম্পত্যজীবনে দুই ছেলে — আরাফাত রায়হান অপু ও তপু রায়হান
- 📌 সুচন্দা বলেছেন, ‘দর্শকেরাই আমাকে ‘কোহিনূর আক্তার থেকে সুচন্দা’ বানিয়েছেন’
📰 বিস্তারিত
সুচন্দার জন্মদিনে ফোন ও বার্তা আসতে থাকে মধ্যরাত থেকে। পরিচিতজনেরা শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করছেন, অনেকে মেসেজ পাঠাচ্ছেন। ফেসবুকে ভক্তরা তাঁর অভিনীত পুরোনো সিনেমার দৃশ্য কেটে, বিভিন্ন ক্লিপ জুড়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এই সবের উত্তর দিতে দিতে সময় কেটে যাচ্ছে। সুচন্দা বলেছেন, ‘এবারের জন্মদিনটা বেশ ব্যতিক্রম কাটছে’। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে অভিনয় থেকে দূরে সরে গেলেও মানুষের ভালোবাসা একটুও কমেনি।
১৯৪৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণকারী সুচন্দা শৈশব কাটান যশোরে। তারপর ঢাকায় এসে চলচ্চিত্রে কাজের শুরু। তাঁর বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী এ এস এম নিজামুদ্দিন আতাইয়ুব এবং মা ছিলেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বেগম জাহানারা। যশোরের মোমেন গার্লস স্কুলে পড়ার সময় থেকেই অভিনয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। একবার ‘শকুন্তলা’ চরিত্রে অভিনয়ের পর শহরের মানুষ তাঁকে নাম ধরে নয়, ‘শকুন্তলা’ বলেই ডাকত।
চলচ্চিত্রে তাঁর প্রথম সুযোগ আসে পরিচালক কাজী খালেকের মাধ্যমে। পরে পরিচালক সুভাষ দত্ত ‘কাগজের নৌকা’ ছবির জন্য তাঁকে নির্বাচন করেন। প্রথম সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে সুচন্দা বলেন, ‘উনি আমাকে দেখে প্রথমেই বললেন, “তোমার এত বড় বড় নখ তো রাখা চলবে না”’। এরপর আসে জহির রায়হানের ‘বেহুলা’। সেই ছবির শুটিং থেকেই তাঁদের সম্পর্কের শুরু। সুচন্দা বলেন, ‘ওনাকে যতটা না আমার ভালো লেগেছে, তার থেকে ওনার কর্মটা দেখে আমি ওনার প্রেমে পড়ে গেছি’।
জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সুচন্দাকে নিয়ে আসে আলোচনার কেন্দ্রে। সেই ছবিতে রাজ্জাকের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি হয়ে ওঠেন সময়ের আলোচিত নায়িকা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘আনোয়ারা’, ‘জুলেখা’, ‘দুই ভাই’, ‘সংসার’, ‘কুঁচবরণ কন্যা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’সহ বেশ কিছু ছবিতে রাজ্জাকের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। একই সময়ে জহির রায়হানের পরিচালনাতেও একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন।
"ওনাকে যতটা না আমার ভালো লেগেছে, তার থেকে ওনার কর্মটা দেখে আমি ওনার প্রেমে পড়ে গেছি"
১৯৬৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, নিজের জন্মদিনেই জহির রায়হানকে বিয়ে করেন সুচন্দা। বিয়েটিও হয়েছিল অনেকটা গোপনে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁদের দাম্পত্যজীবনে দুই ছেলে — আরাফাত রায়হান অপু ও তপু রায়হান। সুচন্দা বলেছেন, জহির ছিলেন শুধু পরিচালক নন — ক্যামেরা, সম্পাদনা, চিত্রনাট্যসহ সিনেমার নানা কাজেই তাঁর ছিল অসাধারণ দক্ষতা। চলচ্চিত্রের এই পথেই সুচন্দার ব্যক্তিজীবনের গল্পও জড়িয়ে যায় জহির রায়হানের সঙ্গে।
সুচন্দা চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারও পেয়েছেন। তবে এত বছর পরও তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন দর্শকের ভালোবাসা। তিনি বলেছেন, ‘দর্শকেরাই আমাকে ‘কোহিনূর আক্তার থেকে সুচন্দা’ বানিয়েছেন’। সেই দর্শকেরাই আজ জন্মদিনে আবার পুরোনো সিনেমার দৃশ্য, ছবি ও স্মৃতি নিয়ে হাজির হচ্ছেন তাঁর কাছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, যশোর, সাতক্ষীরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কোহিনূর আক্তার সুচন্দা, জহির রায়হান, রাজ্জাক, কাজী খালেক, সুভাষ দত্ত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৪৭, ১৯৬৭, ১৯ (সেপ্টেম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!