📌 দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরেও নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়েছেন শাফায়াত-ই-রাব্বি ওয়াজেদ। তিনি ইউনিলিভার বাংলাদেশে অপারেশনস এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি করছেন এবং স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও নিজের কৌতুক দিয়ে মানুষকে হাসাচ্ছেন। দুর্ঘটনার পর তিনি নিজের সক্ষমতায় বিশ্বাস করে নতুন বাস্তবতায় নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন
দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরেও নিজের জীবনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার গল্প শেয়েছেন শাফায়াত-ই-রাব্বি ওয়াজেদ। তিনি এখন ইউনিলিভার বাংলাদেশে অপারেশনস এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি করছেন এবং স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও নিজের কৌতুক দিয়ে মানুষকে হাসাচ্ছেন। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শাফি দুর্ঘটনায় দুচোখের আলো হারানোর পরেও থেমে যাননি। বরং তিনি নিজের সক্ষমতায় বিশ্বাস করে নতুন বাস্তবতায় নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন এবং জীবনের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় শাফায়াত-ই-রাব্বি ওয়াজেদের দুচোখের আলো হারায়, কিন্তু তিনি নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়তে শুরু করেন
- 📌 ইউনিলিভার বাংলাদেশে অপারেশনস এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি করছেন শাফি এবং রাইড শেয়ারিং বাইক দিয়ে প্রতিদিন অফিস যাতায়াত করেন
- 📌 স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও নিজের কৌতুক দিয়ে মানুষকে হাসানোর পাশাপাশি তিনি স্মার্টফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার করেন স্ক্রিন রিডিং সফটওয়্যার দিয়ে
- 📌 ভিজ্যুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটিতে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে শাফি একা চলাফেরা এবং কম্পিউটার ব্যবহার শিখেছেন
- 📌 নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র ছিলেন শাফি, যিনি ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে ইউনিলিভার বাংলাদেশে চাকরি পান
📰 বিস্তারিত
মোহাম্মদপুরের শাফায়াত-ই-রাব্বি ওয়াজেদের জীবন দুর্ঘটনার পর থেকে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হলেও তিনি নিজের সক্ষমতায় বিশ্বাস করে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মালিবাগ রেলক্রসিংয়ে গাড়ির পাংচার এবং ধাক্কা লাগার কারণে তিনি দুচোখের আলো হারান। দুর্ঘটনার পর তিনি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। দুর্ঘটনার পরের প্রায় দেড় মাসের কোনো স্মৃতি ছিল না তার। বাড়িতে ফেরার পর তিনি নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়তে শুরু করেন।
শাফির জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করার প্রথম পদক্ষেপ ছিল ইউনিলিভার বাংলাদেশে ইন্টার্নশিপ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ইউনিলিভার বাংলাদেশে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান এবং চার মাস পর পূর্ণকালীন চাকরির প্রস্তাব পান। তবে নতুন চাকরির সঙ্গে নতুন চিন্তাও এল—প্রতিদিন অফিসে যাবেন কীভাবে? পরিবারের সদস্যদের কিছুটা চিন্তিত হলেও শাফি নিজের মতো করে সমাধান বের করে ফেললেন। তিনি রাইড শেয়ারিং বাইক দিয়ে প্রতিদিন অফিস যাতায়াত শুরু করেন।
শাফি নিজের কৌতুক দিয়ে মানুষকে হাসানোর পছন্দ করেন। তিনি স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও নিজের কৌতুক দিয়ে মানুষকে হাসান। তবে দুর্ঘটনার আগে মঞ্চে উঠে স্ট্যান্ড-আপ কমেডি করার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না তার। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা এবং কৌতুক দিয়ে মঞ্চে উঠে মানুষকে হাসান। শাফি স্মার্টফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার করেন স্ক্রিন রিডিং সফটওয়্যার দিয়ে। স্ক্রিনে যা লেখা থাকে, সফটওয়্যার তা পড়ে শোনায়। এভাবেই তিনি মুঠোফোন ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, টাইপিং এবং মাইক্রোসফট অফিসের কাজ করেন।
"দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছি বলে আমি কারও জন্য বোঝা হতে চাইনি। তখন পরিকল্পনা ছিল, ডিজিটাল মার্কেটিং অথবা কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজ করব। যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে কল সেন্টারে চাকরি করব। তবুও ঘরে বসে থাকব না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মোহাম্মদপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাফায়াত-ই-রাব্বি ওয়াজেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ দিন চিকিৎসা, ৬ মাস প্রশিক্ষণ, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর ইউনিলিভার বাংলাদেশে ইন্টার্নশিপ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!