📌 বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড় মদক গ্রামে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাবে এক নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। ১৬০ পরিবারের ১০ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও ওষুধ ও ওআরএসের সংকটে চিকিৎসা দিতে সমস্যা হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবকে দায়ী করে স্থানীয়রা দ্রুত সহায়তা চাইছে
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী বড় মদক গ্রামে আকস্মিক ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাবে শুক্রবার রাতে এক নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার একদিনে ১৬০ পরিবারের ১০ জনেরও বেশি মানুষ পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। এ ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী থুইনুপ্রু নামের এক নারী মৃত্যুবরণ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বান্দরবানের বড় মদক গ্রামে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাবে ১০ জনেরও বেশি আক্রান্ত, ১ নারী মৃত্যুবরণ
- 📌 ১৬০ পরিবারের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী থুইনুপ্রু নামের নারী রাতে মৃত্যুবরণ
- 📌 বিশুদ্ধ পানির সংকট ও ওষুধের অভাবে আক্রান্তদের চিকিৎসা বিপদে পড়েছে
- 📌 মদক ঝিরির ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা
- 📌 উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিজিবি ব্যাটালিয়ন সমন্বয়ে চিকিৎসা দল পাঠানোর প্রস্তুতি
- 📌 ৬০ বছর বয়সী ঙানিংঅং নামের রোগীকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বড় মদক গ্রামে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা চিকিৎসা সংকটে পড়েছেন। স্থানীয় বাজারের দুটি ফার্মেসিতে ওআরএস ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবের কারণে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা চিংসাথুই মারমা জানান, শুক্রবার রাতে গ্রামের ১৬০ পরিবারের মধ্যে ১০ জনেরও বেশি মানুষ পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। এছাড়া, ৬০ বছর বয়সী ঙানিংঅং নামের একজন রোগীকে শনিবার সকালে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা চসিংমং মারমা মদক ঝিরির ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন। এনসিপির উপজেলা কমিটির সভাপতি ও বড় মদক গ্রামের বাসিন্দা মংমে মারমা বলেন, একসঙ্গে বেশ কয়েকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তিনি দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের একটি চিকিৎসক দল পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ জানান, বড় মদক এলাকায় ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়ার খবর রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত ওআরএস, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানিশোধন ট্যাবলেটসহ একটি চিকিৎসক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিজিবির ৩৮ ও ৫৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কদের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে হেলিকপ্টারে করে চিকিৎসক ও ওষুধ পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা আরও জানান, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা এবং খাবার খাওয়ার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
"মদক ঝিরির ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ব্যবহারের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বান্দরবানের থানচি উপজেলা, বড় মদক গ্রাম, রেমাক্রী ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: থুইনুপ্রু (৩০), ঙানিংঅং (৬০), চিংসাথুই মারমা, চসিংমং মারমা, মংমে মারমা, ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬০ পরিবার, ১০ জনেরও বেশি আক্রান্ত, ৩০ বছর বয়স, ৬০ বছর বয়স, ১০০ কিলোমিটার, ৩৮ ও ৫৭ ব্যাটালিয়ন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!