📌 মহাকাশে নাসার চন্দ্র এক্স–রে অবজারভেটরি থেকে ৮৪টি রহস্যময় উজ্জ্বল বস্তু আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই বস্তুগুলোর নাম ‘হাইপারসফট এক্স–রে সোর্স’ এবং বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মুস্তফা মুহিবুল্লাহ এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছেন। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, এগুলো হতে পারে মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ বা শ্বেত বামন
মহাকাশের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা নানা রহস্যের মধ্যে নতুন একটি আবিষ্কার করেছে বিজ্ঞানীরা। নাসার চন্দ্র এক্স–রে অবজারভেটরি থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে আমাদের নিকটবর্তী ছয়টি গ্যালাক্সিতে ৮৪টি রহস্যময় উজ্জ্বল বস্তু শনাক্ত করেছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কারের বিষয়ে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মুস্তফা মুহিবুল্লাহ বলেছেন, ‘এই বস্তুগুলো অত্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে, যদিও শনাক্ত করা কঠিন ছিল।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহাকাশে ৮৪টি রহস্যময় বস্তু আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা, যার নাম ‘হাইপারসফট এক্স–রে সোর্স’
- 📌 এই বস্তুগুলো সূর্যের থেকে লাখ লাখ গুণ বেশি শক্তি নির্গমন করতে পারে, কিন্তু এতদিন চিহ্নিত করা যায়নি
- 📌 মুস্তফা মুহিবুল্লাহের নেতৃত্বে গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী
- 📌 বস্তুগুলো হতে পারে মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ, শ্বেত বামন, নিউট্রন তারা বা ব্ল্যাক হোল
- 📌 অ্যান্ড্রোমিডা ও এম১০১ সহ ছয়টি গ্যালাক্সিতে ৭ থেকে ২১টি করে এই উৎস পাওয়া গেছে
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, এই রহস্যময় বস্তুগুলোর এক্স–রে রশ্মির শক্তি খুবই কম। বেশিরভাগ বিকিরণ অতিবেগুনি রশ্মিতে পরিণত হয় এবং আন্তনাক্ষত্রিক গ্যাস শোষণ করে ফেলে। ফলে টেলিস্কোপে কেবল কম শক্তির এক্স–রে রশ্মি পৌঁছাতে পারে। মুস্তফা মুহিবুল্লাহ জানান, এই হাইপারসফট উৎসগুলোর একটি অংশ যদি গ্যাস সংগ্রহকারী শ্বেত বামন হয়, তবে তা পর্যবেক্ষণের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বস্তুগুলোর তাপমাত্রা পরিমাপ করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঝাপসা বিন্দুগুলো কোনো টেলিস্কোপের ত্রুটি নয়। বারবার একই অবস্থানে এই বস্তুগুলোর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপেও এদের কিছু সংকেত ধরা পড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই বস্তুগুলোর মধ্যে কিছু হতে পারে মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ বা শ্বেত বামন। আবার কিছু হতে পারে নিউট্রন তারা বা ব্ল্যাক হোল। শ্বেত বামন তারা আশপাশের নক্ষত্র থেকে গ্যাস টেনে নিজের ওজন বাড়াতে থাকে এবং একসময় বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যায়। এই মহাজাগতিক বিস্ফোরণগুলোর আগের অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এতদিন অন্ধকারে ছিলেন।
মহাকাশের এই অদ্ভুত বস্তুগুলো গ্যালাক্সির অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই হাইপারসফট উৎসগুলোর আবিষ্কার সেই হারানো যোগসূত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
"যে বিষয়টি আমাদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হলো শনাক্ত করা কঠিন হলেও এগুলো অত্যন্ত উজ্জ্বল হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহাকাশ (অ্যান্ড্রোমিডা, এম১০১ সহ ছয়টি গ্যালাক্সি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুস্তফা মুহিবুল্লাহ (বাংলাদেশি বিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪টি রহস্যময় বস্তু, ৭ থেকে ২১টি উৎস প্রতি গ্যালাক্সি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!