📌 ফিনল্যান্ডের সিসমা শহরের জঙ্গলে ৩ সেপ্টেম্বর আবিষ্কৃত হয়েছে ভাইকিং যুগের একটি বিশাল রূপার গুপ্তধন। প্রায় ৪ কেজি ওজনের ১০ পাউন্ডের কয়েনসহ গয়না ও হ্যাক সিলভার পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই গুপ্তধন ১০০০-১০৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল
ফিনল্যান্ডের সিসমা শহরের জঙ্গলে একটি অদ্ভুত আবিষ্কার ঘটেছে। ৩ সেপ্টেম্বর এক প্রত্নতত্ত্ববিদ মাটি খুঁড়তে গিয়ে হাজার বছরের পুরোনো একটি বিশাল রূপার গুপ্তধন আবিষ্কার করেছেন। এই গুপ্তধনে প্রায় ৪ কেজি ওজনের ১০ পাউন্ডের রূপার কয়েনসহ গয়না ও হ্যাক সিলভার রয়েছে। ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে এটিই প্রথমবারের মতো এমন বড় আকারের ভাইকিং যুগের গুপ্তধন পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ সেপ্টেম্বর ফিনল্যান্ডের সিসমা শহরের জঙ্গলে প্রত্নতত্ত্ববিদ এসকো তিক্কালা আবিষ্কার করেন ১০০০-১০৫০ খ্রিস্টাব্দের একটি বিশাল রূপার গুপ্তধন।
- 📌 গুপ্তধনে প্রায় ৪ কেজি ওজনের ১০ পাউন্ডের রূপার কয়েনসহ হ্যাক সিলভার এবং রূপার ব্রেসলেট পাওয়া গেছে।
- 📌 গুপ্তধনটি দুটি বার্চগাছের ছালের পাত্রে ভরে ৩৯ ফুট দূরে এবং ১৮ ইঞ্চি গভীরে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
- 📌 এই গুপ্তধনটি ভাইকিং যুগের হলেও, এটি কোনো ভাইকিংয়ের কাজ নয়। ফিনল্যান্ড সেকালে রাজনৈতিকভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের অংশ ছিল না।
- 📌 গুপ্তধনের আজকের বাজারে মূল্য প্রায় ১০ হাজার ডলার।
📰 বিস্তারিত
ফিনল্যান্ডের লাহাটি হিস্টোরিক্যাল মিউজিয়ামের প্রত্নতত্ত্ববিদ এসকো তিক্কালা জানান, গুপ্তধনটি দুটি পাত্রে ভাগ করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রতিটি পাত্রে ছিল হাজার হাজার রূপার কয়েন ও টুকরা। তিনি বলেন, ‘কয়েন এত বেশি যে আমি এখনো সব কটি গোনা শেষ করতে পারিনি!’ গুপ্তধনে পাওয়া কয়েনগুলো মূলত বর্তমান জার্মানি, সুইডেন এবং গ্রেট ব্রিটেন এলাকার। এছাড়াও, কিছু দিরহাম পাওয়া গেছে, যা ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ফিনল্যান্ডে প্রচলিত ছিল।
এসকো তিক্কালা বলেন, ফিনল্যান্ডের ইতিহাসবিদরা ‘ভাইকিং যুগ’ শব্দটি ব্যবহার করলেও, সেকালে ফিনল্যান্ড রাজনৈতিকভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের অংশ ছিল না। তাই এই গুপ্তধন কোনো ভাইকিংয়ের কাজ হতে পারে না। তবে, গুপ্তধন লুকিয়ে রাখার কারণ সম্পর্কে সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। তবে, রোমান আমলের গবেষণা থেকে জানা যায়, সেকালে মানুষ কর বা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে, দেবতাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করতে বা যুদ্ধের সময় সম্পদ নিরাপদে রাখতে মাটির নিচে ধন লুকিয়ে রাখত।
এই আবিষ্কারটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৮৯৫ সালে নৌসিয়ানেন এলাকায় পাওয়া গুপ্তধনটি ছিল ১ হাজার ৭০০ রূপার কয়েন, কিন্তু ওজন ছিল এই নতুন গুপ্তধনের অর্ধেক। শুধু ফিনল্যান্ড নয়, সম্প্রতি নরওয়েতে ৪ হাজার ৭০০ কয়েনের একটি বিশাল গুপ্তধন এবং ডেনমার্কে ৭০০ রূপার বস্তুর একটি বিশাল ভান্ডার পাওয়া গেছে।
"গুপ্তধনগুলো মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে বার্চগাছের ছালের পাত্রে ভরে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। পাত্র দুটি একে অপরের থেকে প্রায় ৩৯ ফুট দূরে এবং মাটির ১৮ ইঞ্চি গভীরে দুটি পাথরের মাঝখানে লুকানো ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিসমা শহরের জঙ্গল, ফিনল্যান্ড (হেলসিংকি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এসকো তিক্কালা (প্রত্নতত্ত্ববিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ কেজি ওজনের রূপার কয়েনসহ, ৩৯ ফুট দূরত্ব, ১৮ ইঞ্চি গভীরে, ১০০০-১০৫০ খ্রিস্টাব্দের গুপ্তধন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!