📌 নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড হসপিটাল (জেবিএফআরএইচ) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে। ১০ বিঘা জায়গায় গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠান, যেখানে ২৩২টি অ্যাপার্টমেন্টে প্রবীণদের জন্য চিকিৎসা, পরিচর্যা ও অবসর কাটানোর সুবিধা রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. সরদার এ নাঈমের নেতৃত্বে এই প্রকল্পে জাপানের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা রয়েছে। বর্তমানে ৩৯ জন প্রবীণ এখানে বসবাস করছেন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা রোডে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড হসপিটাল (জেবিএফআরএইচ) প্রবীণদের জন্য একটি বিপ্লবী সেবা কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে এবং বয়সজনিত স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা ও অবসর কাটানোর জন্য একক-সুযোগের ব্যবস্থা প্রদান করছে। প্রতিষ্ঠানটি ১০ বিঘা জায়গায় গড়ে উঠেছে এবং এখানে প্রবীণদের জন্য চিকিৎসা, আবাসিক সুবিধা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি অবসর কাটানোর নানা ব্যবস্থা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নারায়ণগঞ্জে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ রিটায়ারমেন্ট হোমস অ্যান্ড হসপিটাল (জেবিএফআরএইচ) চালু হয়** — ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান।
- 📌 **১০ বিঘা জায়গায় ৫তলা ৪টি ভবনে ২৩২টি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট** — পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও সুরমা নামে এই ভবনসমূহে প্রবীণদের জন্য সুবিধাজনক নকশা করা হয়েছে।
- 📌 **চিকিৎসা, পরিচর্যা ও অবসর কাটানোর একক সুবিধা** — প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে চিকিৎসক, নার্স ও প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভারের সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিবিদের পরামর্শে প্রস্তুত পাঁচ বেলার খাবার সরবরাহ করা হয়।
- 📌 **১৫০ শয্যার কেয়ার সেন্টার ও ৮০ শয্যার প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট** — চলাফেরা সীমিত প্রবীণদের জন্য ১৫০ শয্যার কেয়ার সেন্টার এবং জটিল অসুস্থতা নিয়ে থাকা রোগীদের জন্য ৮০ শয্যার প্যালিয়েটিভ ও হসপিস কেয়ার ইউনিট রয়েছে।
- 📌 **প্রবীণ পরিচর্যার জন্য দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণ** — জাপানের কেয়ারগিভার বিশেষজ্ঞ কাজি সোগিমোতোর তত্ত্বাবধানে এখানে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 **বর্তমানে ৩৯ জন প্রবীণ বসবাস করছেন** — প্রতিষ্ঠানটির প্রথম নিয়মিত বাসিন্দা হলেন বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।
📰 বিস্তারিত
জেবিএফআরএইচের স্থাপনা এবং সুবিধাগুলো প্রচলিত হাসপাতাল বা সাধারণ আবাসনের মতো নয়। এখানে প্রবীণদের জন্য একটি সম্পূর্ণ একক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বসবাস, চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং অবসর কাটানোর সুবিধা একসাথে পাওয়া যায়। পাঁচতলা চারটি ভবনের নাম পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও সুরমা। প্রতিটি ভবনে প্রশস্ত করিডর, লিফট এবং হুইলচেয়ারের জন্য সুবিধাজনক ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে বসবাসকারী প্রবীণদের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালের বিছানাতেই তাঁকে ভবনের ছাদে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ছাদের খোলা পরিবেশে ফুল, লতাগাছ ও সবুজের সমারোহে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সরদার এ নাঈমের নেতৃত্বে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সময় জাপানের প্রবীণ পরিচর্যার কাঠামো কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জেবিএফআরএইচ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন তিনি। জাপানি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেয়েছে। অধ্যাপক নাঈমের ভাষায়, ‘জীবনের শেষ সময়ে একজন মানুষ যখন অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখন চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানসিক স্বস্তিরও প্রয়োজন হয়।’
জেবিএফআরএইচের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে চিকিৎসক, নার্স ও প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভারের সহায়তা পাওয়া যায়। পুষ্টিবিদের পরামর্শে প্রস্তুত পাঁচ বেলার খাবার সরবরাহ করা হয়। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা। দিন কাটানোর জন্যও রয়েছে নানা আয়োজন, যেমন শরীরচর্চায় জিম, সুইমিংপুল, জ্যাকুজি, স্টিমবাথ ও ফিজিওথেরাপি সেন্টার। অবসর কাটাতে আছে লাইব্রেরি ও মুভি থিয়েটার। ইয়োগা, হাঁটা, আড্ডা ও নদীভ্রমণের সুযোগও রাখা হয়েছে।
"জীবনের শেষ সময়ে একজন মানুষ যখন অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখন চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানসিক স্বস্তিরও প্রয়োজন হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ থানা রোড, শীতলক্ষ্যা নদীর তীর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. সরদার এ নাঈম (প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান), সিরাজুল ইসলাম (প্রথম নিয়মিত বাসিন্দা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বিঘা জমি, ২৩২টি অ্যাপার্টমেন্ট, ১৫০ শয্যার কেয়ার সেন্টার, ৮০ শয্যার প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট, ৩৯ জন বর্তমান বাসিন্দা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!