📌 চট্টগ্রামে গত দেড় মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়েছে। নগর ও সীতাকুণ্ড-কর্ণফুলী উপজেলায় জরিপে এডিস ইজিপ্টাই ও এশিয়ান টাইগার মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এডিস ইজিপ্টাই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক, আর এশিয়ান টাইগার মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক
চট্টগ্রামে গত দেড় মাসে ডেঙ্গু সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন আক্রান্ত হয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বিশেষত চট্টগ্রাম নগর, সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলায় রোগীর সংখ্যা বেশি। স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে এই তিন এলাকায় দুটি ধরনের মশার লার্ভা পাওয়া গেছে, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়াতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন, নগর ও দুই উপজেলায় রোগীর সংখ্যা বেশি
- 📌 জরিপে ৭০-৮০% লার্ভা ছিল ‘এডিস ইজিপ্টাই’ (পীতজ্বর মশা) ও ২০-৩০% ছিল ‘এশিয়ান টাইগার মশা’
- 📌 এডিস ইজিপ্টাই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক, আর এশিয়ান টাইগার মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক
- 📌 জরিপে বাড়ির বাইরে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রাংশে লার্ভা পাওয়া গেছে
- 📌 কর্ণফুলীতে বাড়ির উঠান ও সীতাকুণ্ডে দোকানের সামনে যন্ত্রাংশে লার্ভা বেশি পাওয়া গেছে
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরে গত জুন মাসে এবং সীতাকুণ্ড-কর্ণফুলী উপজেলায় জুলাই-আগস্ট মাসে মশার লার্ভা সংগ্রহ করা হয়। জরিপে প্রাপ্ত লার্ভার মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ছিল ‘এডিস ইজিপ্টাই’ (পীতজ্বর মশা) এবং ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ছিল ‘এশিয়ান টাইগার মশা’ (এডিস অ্যালবোপিকটাস)। এডিস ইজিপ্টাই মানুষের ঘরবাড়ির আশপাশে বেশি থাকে এবং মানুষের রক্তে বেশি আকৃষ্ট হয়, যেখানে এশিয়ান টাইগার মশা সাধারণত বাগান-ঝোপঝাড়ে বেশি দেখা যায়।
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন সৌনম বড়ুয়া জানান, কর্ণফুলী উপজেলায় বাড়ির উঠান এবং সীতাকুণ্ডে দোকানের সামনে ফেলে রাখা যন্ত্রাংশ, কৌটা ও টায়ারে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এডিস ইজিপ্টাইয়ের সংখ্যা বেশি হলেও এশিয়ান টাইগার মশার লার্ভাও পাওয়া গেছে। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং স্থান পরিষ্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, এডিস মশা মূলত দিনের বেলা সক্রিয় থাকে। ভোরের পর এবং সন্ধ্যার আগে এদের কামড়ানোর প্রবণতা বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, এডিস ইজিপ্টাই বাড়ির ভেতর ও বাইরে থাকে, আর এশিয়ান টাইগার মশা বাড়ির বাইরে ঝোপঝাড়ে বেশি দেখা যায়।
"এডিস ইজিপ্টাই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক, অন্যদিকে এশিয়ান টাইগার মশা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক। কোনো এলাকায় এডিস ইজিপ্টাইয়ের লার্ভা বেশি পাওয়া গেলে সেখানে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম নগর, সীতাকুণ্ড, কর্ণফুলী উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডেপুটি সিভিল সার্জন সৌনম বড়ুয়া, জেলা কীটতত্ত্ববিদ (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মো. মঈন উদ্দীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০ জন (প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত), ৭০-৮০% (এডিস ইজিপ্টাই লার্ভা), ২০-৩০% (এশিয়ান টাইগার লার্ভা), ৯৯% (এশিয়ান টাইগার লার্ভা বাড়ির বাইরে পাওয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!