📌 বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, মুঠোফোন বার্তা পেয়ে যক্ষ্মা রোগীদের ৪২% ধূমপান ছেড়ে দিচ্ছে। সরকার ধূমপান প্রতিরোধ কর্মসূচিকে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
ঢাকায় আজ বৃহস্পতিবার একটি গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, মুঠোফোন বার্তা পেয়ে যক্ষ্মা রোগীদের ৪২ শতাংশ ধূমপান ছেড়ে দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মুঠোফোন বার্তা পাওয়ার ফলে রোগীদের ধূমপান ছাড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো ধূমপান প্রতিরোধ কর্মসূচিকে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুঠোফোন বার্তা পেয়ে যক্ষ্মা রোগীদের ৪২ শতাংশ ধূমপান ছেড়ে দিয়েছে, অন্যদের মধ্যে এই হার ছিল মাত্র ১৬.৫ শতাংশ
- 📌 গবেষণায় অংশ নেওয়া ২৭টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৮০ জন রোগীকে ১৩৪টি বার্তা পাঠানো হয়েছিল
- 📌 মুখোমুখি পরামর্শ পেয়ে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার হার ৬২.১ শতাংশ, যা মুঠোফোন বার্তা পাওয়ার তুলনায় বেশি
- 📌 বাংলাদেশে প্রতিদিন ধূমপানের কারণে সাড়ে ৫০০ জন এবং যক্ষ্মার কারণে ১২৬ জনের মৃত্যু হয়
- 📌 গবেষণা পরিচালনা করেছে বাংলাদেশের আর্ক ফাউন্ডেশন ও পাকিস্তানের দ্য ইনিশিয়েটিভ, যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সহযোগিতায়
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের আর্ক ফাউন্ডেশন ও পাকিস্তানের ইসলামাবাদের দ্য ইনিশিয়েটিভের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, মুঠোফোন বার্তা পেয়ে যক্ষ্মা রোগীদের ৪২ শতাংশ ধূমপান ছেড়ে দিয়েছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ২৭টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৮০ জন রোগীকে ছয় মাসের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত ১৩৪টি বার্তা পাঠানো হয়েছিল। অন্যদের কোনো বার্তা পাঠানো হয়নি। ছয় মাস পর দেখা গেছে, মুঠোফোন বার্তা পাওয়ার ফলে ৪৩.২ শতাংশ রোগী ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন, যেখানে কোনো বার্তা পাননি এমন রোগীদের মধ্যে এই হার ছিল মাত্র ১৬.৫ শতাংশ।
গবেষণার দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭৬৪ জন রোগীকে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদেরকে দুটি সমান দলে ভাগ করা হয়েছিল। একটি দলকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হয়েছিল, অন্যদলকে স্বাস্থ্যকর্মীরা মুখোমুখি পরামর্শ দিয়েছিলেন। মুখোমুখি পরামর্শ পাওয়ার ফলে ধূমপান ছাড়ার হার ৬২.১ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে মুঠোফোন বার্তা পাওয়ার ফলে এই হার ছিল ৩৫.৯ শতাংশ। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কামরান সিদ্দিকি। তিনি বলেন, মুঠোফোন বার্তাগুলো ছিল যক্ষ্মা ও ধূমপানের বিপদ সম্পর্কিত এবং বাংলাদেশে এসব বার্তা ছিল বাংলা ভাষায়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেছেন, দেশে প্রতিদিন ধূমপানের কারণে প্রায় সাড়ে ৫০০ জন এবং যক্ষ্মার কারণে ১২৬ জনের মৃত্যু হয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থের অভাব নেই, কিন্তু পরিকল্পনা ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, রোগীরা যক্ষ্মার ওষুধ ঠিকমতো খাচ্ছেন না।
জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মকর্তারা বলেছেন, ধূমপান প্রতিরোধের বিষয়টি জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে যুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আতিকুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের ধূমপায়ীদের ৭০ শতাংশ ধূমপান ছেড়ে দিতে চান, কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংগঠনের কাজের সমন্বয়ে ঘাটতি রয়েছে। তিনি প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি ও মানুষকে ধূমপান ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচারাভিযানের অভাব উল্লেখ করেছেন।
"ধূমপান যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, ধূমপান যক্ষ্মায় মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান ছাড়লে যক্ষ্মায় আক্রান্তের ঝুঁকি ও যক্ষ্মায় মৃত্যুর ঝুঁকি কমে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরান সিদ্দিকি (গবেষক), শেখ মোমেনা মনি (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়), অধ্যাপক আতিকুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ শতাংশ (ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন), ১৬.৫ শতাংশ (কোনো বার্তা পাননি), ৬২.১ শতাংশ (মুখোমুখি পরামর্শ পেয়ে), ১৩৪টি বার্তা, ২৭টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৮০ জন রোগী (প্রথম পর্যায়), ৩৬টি প্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৭৬৪ জন রোগী (দ্বিতীয় পর্যায়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!