📌 আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশ করেছে যে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না করা খাবারে সিসা মিশে থাকে। বিশেষ করে নতুন পাত্রে রান্না করা খাবারে সিসার মাত্রা এফডিএর সীমার ৩০ থেকে ৪২ গুণ বেশি। শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশ ও শেখার ক্ষমতায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে
বাংলাদেশে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না করা খাবারে বিষাক্ত ধাতু সিসা মিশে থাকে। বিশেষ করে নতুন পাত্রে প্রথমবার রান্না করা খাবারে সিসার মাত্রা এফডিএর নির্ধারিত সীমার ৩০ থেকে ৪২ গুণ বেশি। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে নেচার প্রকাশিত জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি সাময়িকীতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নতুন অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা প্রতি কেজি সাদা ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে
- 📌 এফডিএর নির্ধারিত সীমা প্রতি কেজিতে ১০ মাইক্রোগ্রাম — গবেষণায় পাওয়া সিসার মাত্রা সীমার ৩০ থেকে ৪২ গুণ বেশি
- 📌 সিসা শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে
- 📌 নতুন পাত্র স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলে সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বাড়ে
- 📌 বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের শিশুদের ভাত থেকে দৈনিক সিসা গ্রহণের মাত্রা এফডিএর সীমার পাঁচ গুণ বেশি হতে পারে
- 📌 গবেষকরা বলেছেন, পুরোনো স্ক্র্যাপ ধাতু গলিয়ে স্থানীয়ভাবে পাত্র তৈরির ক্ষেত্রে যথাযথ পরীক্ষা না করায় এ ঝুঁকি তৈরি হয়
📰 বিস্তারিত
আইসিডিডিআর,বি ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন বা পুরোনো অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে প্রথমবার রান্না করা খাবারে সিসার মাত্রা বেশি। গবেষণায় বাংলাদেশের পরিবার থেকে সংগ্রহ করা সাতটি ব্যবহৃত এবং বাজার থেকে কেনা ২০টি নতুন পাত্র পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, নতুন ও পুরোনো পাত্র থেকেই খাবারে সিসা মিশেছে। ব্যবহারের সঙ্গে নতুন পাত্রে রান্না করা খাবারে সিসার পরিমাণ কমলেও তা নিরাপদ মাত্রার নিচে নামেনি। পুরোনো সাতটি পাত্রের মধ্যে ছয়টিতে রান্না করা ভাতেও সিসা পাওয়া গেছে।
গবেষকরা বলেছেন, সিসা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, রক্তে সিসার এমন কোনো মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন পাত্র স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলে সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বাড়ে। ধাতব খুন্তি দিয়ে খাবার নাড়াচাড়া করলেও সিসা নির্গমনের পরিমাণ বাড়ে।
আইসিডিডিআর,বির এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়াশ বিভাগের সহকারী বিজ্ঞানী ড. জেসমিন সুলতানা বলেছেন, খাবার তৈরিতে, বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে খাদ্যনিরাপত্তার দিক থেকে পরীক্ষিত পাত্র ব্যবহার করা প্রয়োজন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, স্টিলের তারের মাজুনি দিয়ে পাত্র ঘষা এবং তাতে টক বা অম্লীয় খাবার রান্না এড়িয়ে চলার। তবে এসব সতর্কতা দূষিত পাত্রকে পুরোপুরি নিরাপদ করে না।
"রান্নার পাত্র থেকে খাবারে সিসা মিশে যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নিরাপত্তা মান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য বিএসটিআইকে সিসা-সংক্রান্ত নিরাপত্তা মান তৈরি ও কার্যকর করার আহ্বান জানাই"
গবেষণার সমন্বয়ক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেছেন। তিনি বলেছেন, সাশ্রয়ী দামের রান্নার পাত্র মানেই অনিরাপদ পাত্র হওয়া উচিত নয়। গবেষকদের মতে, এটি পরীক্ষাগারে পরিচালিত ছোট পরিসরের গবেষণা। শিশুদের সিসা গ্রহণের পরিমাণ সরাসরি পরীক্ষা করে পাওয়া নয়; বরং হিসাবের মডেলের মাধ্যমে অনুমান করা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (গ্রামাঞ্চল), যুক্তরাষ্ট্র (স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. জেসমিন সুলতানা (আইসিডিডিআর,বি), ড. মো. মাহবুবুর রহমান (আইসিডিডিআর,বি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম (সাদা ভাত), ৪২০ মাইক্রোগ্রাম (খিচুড়ি), ১০ মাইক্রোগ্রাম (সীমা), ২০টি (নতুন পাত্র), ৭টি (ব্যবহৃত পাত্র)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!