📌 বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে দেশের প্রথম উচ্চ-ফলনশীল কালো চাল ‘ব্রি ধান১১৫’। এই জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৪ টন, ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। ৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চাষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে
বাংলাদেশের কৃষি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে দেশের প্রথম উচ্চ-ফলনশীল কালো চাল ‘ব্রি ধান১১৫’। এই নতুন ধানের জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৪ টন, যা ঐতিহ্যবাহী কালো ধানের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া এটি ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ৫ ফেব্রুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় এই জাতটি আনুষ্ঠানিকভাবে চাষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ব্রি ধান১১৫** বাংলাদেশের প্রথম উচ্চ-ফলনশীল কালো চাল, হেক্টরপ্রতি ৭.৪ টন ফলন
- 📌 প্রতি কেজি চালে ১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন-ই ও ২৯.১২ মিলিগ্রাম সায়ানিডিন-৩-গ্লুকোসাইড
- 📌 ১ হাজারটি ধানের ওজন ১৭.৮ গ্রাম, অ্যামাইলোজ ২৩ শতাংশ
- 📌 জীবনকাল ১৩৭ থেকে ১৪২ দিন, কালচে বাদামি খোসা ও কালো চাল
- 📌 কালো চালে সাদা চালের তুলনায় প্রোটিন ও আঁশ তিনগুণ বেশি
📰 বিস্তারিত
ব্রি ধান১১৫’ উদ্ভাবনের পিছনে রয়েছে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণা। ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) গবেষণায় দেখা গেছে, ঐতিহ্যবাহী কালো ধানের ফলন হেক্টরপ্রতি মাত্র ২ থেকে ৩ টন। ফলে এই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ চাল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। তবে ব্রির বিজ্ঞানীরা অ্যান্থার কালচার পদ্ধতি ব্যবহার করে এই উচ্চ-ফলনশীল জাতটি উদ্ভাবন করেছেন। এই পদ্ধতিতে পরাগধানী থেকে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা তৈরি করা হয়, যা কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীল জাত অর্জনে সহায়তা করে।
‘ব্রি ধান১১৫’ শুধু ফলনেই নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য। প্রতি কেজি চালে ১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন-ই এবং ২৯.১২ মিলিগ্রাম সায়ানিডিন-৩-গ্লুকোসাইড রয়েছে। এছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম চালে ৫৩৬.৬১ মাইক্রোমোল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এই চালের বাইরের খোসায় প্রচুর অ্যান্থোসায়ানিন থাকে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই চালে সাদা চালের তুলনায় প্রোটিন, ফাইবার (আঁশ), ভিটামিন-ই এবং খনিজ পদার্থ প্রায় তিনগুণ বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো সাদা চালে মাত্র ০.৪ গ্রাম আঁশ থাকলেও, কালো চালে এর পরিমাণ প্রায় ৪.৯ গ্রাম।
ব্রি ধান১১৫’ কৃষকদের জন্যও লাভজনক। এই জাতের ফলন ঐতিহ্যবাহী জাতগুলোর চেয়ে অনেক বেশি, যা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হতে পারে। এছাড়া, এই চালের তুষ (কুঁড়া স্তর) অক্ষত থাকায়, এটি হোল গ্রেইন বা পূর্ণাঙ্গ শস্য। সাদা চাল মেশিনে পালিশ করার সময় এই স্তর হারিয়ে যায়, কিন্তু কালো চালে তা বজায় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, কালো চালের তুষ হজমের গতি কিছুটা কমিয়ে দেয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার বাড়তি ঝুঁকির কারণে, এই চাল স্বাস্থ্যের জন্য একটি আশীর্বাদস্বরূপ হতে পারে।
"ভিটামিন-ই বা টোকোফেরল আমাদের শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ব্রি গবেষণা কেন্দ্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্রি বিজ্ঞানীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭.৪ টন (ফলন), ১৫ মিলিগ্রাম (ভিটামিন-ই/কেজি), ১১৫তম (জাতীয় বীজ বোর্ড সভা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!