📌 গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি বিশেষজ্ঞ আ নম আমিনুর রহমান বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জলপাই-পিঠ তুলিকার (অলিভ-ব্যাকড পিপিট) অলৌকিক ছবি তুলেছিলেন। তিনি কক্সবাজারের সোনাদিয়া ও কুমিরের খামারেও এই পাখির দেখা পেয়েছিলেন এবং এর বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য ও আচরণের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ডা. আ নম আমিনুর রহমানের জীবনের একটি অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হলো বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জলপাই-পিঠ তুলিকার (অলিভ-ব্যাকড পিপিট) অলৌকিক ছবি তুলে নেওয়া। এই পাখির প্রথম ছবি তিনি ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর গাজীপুরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তুলেছিলেন, কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর ছবিটি ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি নাইক্ষ্যংছড়ির কুমিরের খামারে পেয়েছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির কুমিরের খামারে জলপাই-পিঠ তুলিকার (অলিভ-ব্যাকড পিপিট) বরইয়ের ডাল ও বিদ্যুতের তারে বসে থাকা অবস্থায় অলৌকিক ছবি তুলেছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি বিশেষজ্ঞ ডা. আ নম আমিনুর রহমান।
- 📌 এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Anthus hodgsoni এবং এটি Motacillidae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 পাখিটির দেহের দৈর্ঘ্য ১৫-১৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন ২১-২২ গ্রাম।
- 📌 পাখির ডানার পালকে দুটি সাদা পট্টি এবং বুক-পেটে মোটা মোটা কালচে দাগ থাকে।
- 📌 এই পাখি মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রজননকালে পার্বত্য অঞ্চলে বাসা বানায় এবং প্রতি মৌসুমে ২ বার ডিম পাড়ে।
- 📌 পাখিটি ১২-১৩ দিনে ডিম ফোটে এবং ১১-১২ দিনে ছানারা উড়তে শেখে।
📰 বিস্তারিত
ডা. আ নম আমিনুর রহমানের মতে, জলপাই-পিঠ তুলিকা বাংলাদেশের একটি সাধারণ শীতকালীন পরিযায়ী পাখি। এই পাখির কোনো প্রচলিত বাংলা নাম নেই, তবে পশ্চিমবঙ্গে এটি মুচাসী নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম হলো অলিভ-ব্যাকড পিপিট। এই পাখি বাংলাদেশ ছাড়াও উত্তর, মধ্য ও পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর-পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দেখা যায়।
২০১০ সালের ১১ নভেম্বর গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমলকীবাগানে পাখিটির প্রথম ছবি তুলেছিলেন তিনি। পরে ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির কুমিরের খামারে পাখিটির সবচেয়ে সুন্দর ছবি তুলেছিলেন। সকালে নাশতা করার সময় বরইয়ের ডালে বসে থাকা পাখিটিকে দেখে তিনি দ্রুত ক্যামেরায় ক্লিক করেছিলেন। পরে পাখিটি বিদ্যুতের তারে বসে গেলেও তা ছবিতে ধরা পড়েছিল না।
ডা. রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী, এই পাখির দেহের ওপরের অংশ জলপাই-সবুজ রঙের এবং ডানার পালকের প্রান্ত উজ্জ্বল জলপাই-সোনালি। ভ্রুর সামনের অংশ হলদেটে এবং পেছনটা সাদাটে। পাখির কান-ঢাকনির পেছনটায় সাদা ফোঁটা এবং কালচে ছোপ থাকে। ডানার পালকে দুটি সাদা পট্টি এবং বুক-পেটের দুপাশে হালকা হলদেটে ভাব থাকে। বুক-পেটে মোটা মোটা কালচে দাগ এবং লেজের বাইরের পালকগুলো সাদাটে।
পাখিটি মূলত মাটিতে পাতাসারের ওপর খাবার খোঁজে। এর খাদ্য হিসেবে কীটপতঙ্গ, তাদের শূককীট এবং ঘাস ও আগাছার বীজ থাকে। এই পাখির ডাক শুনতে মজার, যা 'টি টি টি-টিরিচি-টিচি-চিক্-চিক্-চিক' শব্দে ডাকে।
"মুচাসী পাখিটি হাঁটার সময় খানিক পরপর লেজ ওপর-নিচে করে নাচতে থাকে। বিরক্ত হলে বা ভয় পেলে গাছে উঠে যায়।" — ডা. আ নম আমিনুর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বান্দরবান (নাইক্ষ্যংছড়ি), গাজীপুর (কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), কক্সবাজার (সোনাদিয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. আ নম আমিনুর রহমান, প্রাণিপ্রেমী আদনান আজাদ, ফারজানা রিক্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ নভেম্বর ২০১০, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫-১৭ সেন্টিমিটার, ২১-২২ গ্রাম, ৩-৫টি ডিম, ১২-১৩ দিন, ১১-১২ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!