📌 আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ নেতার (ওবায়দুল কাদেরসহ) অর্ধেক সম্পত্তি জুলাই আন্দোলনের আহত-নিহত যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টনের আদেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করা হয়
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ নেতার অর্ধেক সম্পত্তি জুলাই আন্দোলনের আহত-নিহত যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টনের আদেশ জারি করেছে। এ রায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ ৫ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ নেতার (ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান) অর্ধেক সম্পত্তি জুলাই যোদ্ধাদের বণ্টনের আদেশ দিয়েছে।
- 📌 আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ সাত আসামির মধ্যে ৫ জনের সম্পত্তি বণ্টিত হবে।
- 📌 ১৭ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।
- 📌 ২৯ জন সাক্ষী, যার মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদি, তদন্ত কর্মকর্তাসহ বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
- 📌 বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের নেতৃত্বে রায় ঘোষণা করা হয়।
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় আসামিরা হলেন: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে আহত-নিহত যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টায় এই রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করা হয়েছিল। ১২ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। সে দিন আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন। পরে পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারকাজ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদি, তদন্ত কর্মকর্তাসহ এই মামলায় ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৪ আগস্ট শুরু হয় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।
"আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের অর্ধেক সম্পত্তি জুলাই আন্দোলনের আহত-নিহত যোদ্ধাদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ জন (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতা), ২৯ জন (সাক্ষী), ১৭ আগস্ট (রায় ঘোষণার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!