📌 সিরাজগঞ্জের চলনবিলসহ বিভিন্ন এলাকায় শীতের আগেই অতিথি পাখির আগমন শুরু হয়েছে। সাইবেরিয়া থেকে আসা এই পাখিরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে, কিন্তু অবৈধ শিকারের কারণে বিপদে পড়ছে। পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাধীনজীবনের পরিচালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেছেন, পাখিরা দেশের ফসল ও পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছে
সিরাজগঞ্জের চলনবিলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতের আগেই অতিথি পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে আগমন শুরু করেছে। সাইবেরিয়ার তীব্র ঠান্ডা ও খাদ্যাভাব এড়াতে এই পাখিরা বাংলাদেশের অনুকূল পরিবেশে আশ্রয় নিচ্ছে। চলনবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এদের আগমন নতুন রঙ যোগ করছে। এ মৌসুমে মৎস্য ভান্ডারখ্যাত তাড়াশ উপজেলার চলনবিলে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির ঝাঁক দেখা যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের চলনবিলসহ যমুনা চর ও বেলকুছি উপজেলায় শীতের আগেই অতিথি পাখির আগমন শুরু হয়েছে
- 📌 চলনবিলের ১৪টি নদী ও ২২টি বিলের মধ্য দিয়ে এদের আগমন ঘটছে, যেখানে এখনও পানি শুকিয়ে নেই
- 📌 পাখিরা খাদ্যাভাব ও ঠান্ডা এড়াতে বাংলাদেশে আসছে, যেখানে তারা ফসলের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফসল রক্ষা করে
- 📌 অবৈধ শিকার ও জাল-খাঁচার মাধ্যমে পাখি ধরা হচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে বিপদে ফেলছে
- 📌 পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাধীনজীবনের পরিচালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেছেন, পাখিরা প্রকৃতির অলঙ্কার এবং তাদের স্বাধীন বিচরণ পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায়
- 📌 সরকারি আইন অনুযায়ী অতিথি পাখি শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ, কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উদাসীনতা কারণে এখনও অবৈধ শিকার চলছে
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জের চলনবিলে এবছর শীতের আগেই অতিথি পাখির আগমন শুরু হয়েছে। সাইবেরিয়া থেকে আসা এই পাখিরা বাংলাদেশের তুলনামূলকভাবে অনুকূল পরিবেশে আশ্রয় নিচ্ছে। চলনবিলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ১৪টি নদী ও ২২টি ছোট-বড় বিলের মধ্য দিয়ে এদের আগমন ঘটছে। এ মৌসুমে পানি এখনও শুকিয়ে গেলেও, পাখিরা যমুনা চর ও বেলকুছি উপজেলার চর এলাকায় নিজের আহার জোগাতে আসছে। প্রতিবছর সাধারণত পানি শুকিয়ে গেলে এদের আগমন ঘটে, কিন্তু এবছর আগেই বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, শামকৈলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা যাচ্ছে।
এই পাখিরা জেলার বিভিন্ন মাঠ ও গাছে অবস্থান করে। সকাল থেকেই খাবারের খোজে ভিড় করে বক, বালিচোরা, পানকৈড় ও রাতচোরাসহ নানা প্রজাতির পাখি। চলনবিলে বিভিন্ন জাতের পাখি দেখতে ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণীর বিনোদন প্রেমী। তবে পাখির আগমনে অসাধু পাখি শিকারিরা সুযোগ নিয়ে জাল ও খাঁচার মাধ্যমে অতিথি পাখি শিকার করছে। অবাধে পাখি শিকারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাধীনজীবনের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেছেন, “পাখি প্রকৃতির অলঙ্কার! হরেক রঙের বাহারি পাখিদের ওড়াউড়ি, কিচিরমিচির শব্দের কলতান মুখরিত করে প্রকৃতিক পরিবেশ। ওদের স্বাভাবিক স্বাধীন বিচরণ সত্যি অনন্য! ওদের বাহারী অঙ্গ-ভঙ্গি প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। আমাদের মুগ্ধ করে। শীতের কষ্ট সহ অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অতিথি পাখিরা সাময়িক সময়ের জন্য হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে। যা আমাদের দেশের জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ। ওরা অপকারি পোকা-মাকড়, কিট পতঙ্গ খেয়ে আমাদের ফসল রক্ষা করে। রোগাক্রান্ত, দূর্বল মাছ খেয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক। পাখিদের বিষ্ঠা ভূমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।”
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্ত বলেছেন, অতিথি পাখি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। এরা ফসলের ক্ষতিকারক পোকা খায়, ফলে কৃষকদের ফসল উৎপাদন খরচ কম হয়। এছাড়া এদের বিষ্ঠা জমিতে সার হিসাবে কাজ করে। তবে সরকারি আইন অনুযায়ী অতিথি পাখি শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ, কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উদাসীনতা কারণে এখনও অবৈধ শিকার চলছে।
"পাখি প্রকৃতির অলঙ্কার! হরেক রঙের বাহারি পাখিদের ওড়াউড়ি, কিচিরমিচির শব্দের কলতান মুখরিত করে প্রকৃতিক পরিবেশ। ওদের স্বাধীন বিচরণ সত্যি অনন্য!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের চলনবিল, যমুনা চর, বেলকুছি উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নাছিম (স্বাধীনজীবন পরিচালক), শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্ত (কৃষি কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪টি নদী, ২২টি বিল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!