📌 বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে জানিয়েছে, দেশে আইন থাকলেও বায়ু, শব্দ, দৃষ্টি ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ প্রয়োগ নেই। ঢাকায় প্রতিদিন ৭ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও ৫৫ শতাংশই অপরিকল্পিতভাবে ফেলা হয়
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জানিয়েছে, দেশে বায়ু, শব্দ, দৃষ্টি ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘বায়ু-শব্দ-দৃষ্টি-প্লাস্টিক দূষণ: প্রতিকার কত দূর?’ শীর্ষক সেমিনারে পরিবেশবিদ, শিক্ষক ও নগরবিদেরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও ঢাকায় উৎপন্ন হয় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টন
- 📌 মোট বর্জ্যের ৫৫ শতাংশই অপরিকল্পিতভাবে খোলা জায়গায় ফেলা হয়
- 📌 বছরে প্রায় ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, যা নদী ও ভূগর্ভস্থ পানিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে
- 📌 ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎস নির্মাণকাজ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, যা মোট দূষণের ৩০ শতাংশ
- 📌 ঢাকার ৮২ শতাংশ এলাকায় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের বেশি, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে
- 📌 বাপার সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তারেকদার দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিকল্প ব্যবস্থা সহজলভ্য করার দাবি জানান
- 📌 পরিবেশমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, রাত ১২টার পর সব বিলবোর্ড বন্ধ করলে দৃষ্টিদূষণ কমবে
📰 বিস্তারিত
বাপার গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর মধ্যে ঢাকায় উৎপন্ন হয় প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টন। মোট বর্জ্যের ৫৫ শতাংশই অপরিকল্পিতভাবে খোলা জায়গায় ফেলা হয়। বছরে প্রায় ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, যা নদী, জলাশয় ও ভূগর্ভস্থ পানিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করছে।
ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎস নির্মাণকাজ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, যা মোট দূষণের ৩০ শতাংশ। ইটভাটা ও শিল্পকারখানা থেকে ২৯ শতাংশ এবং যানবাহন থেকে ১৫ শতাংশ দূষণ হচ্ছে। শব্দদূষণের ক্ষেত্রে ঢাকার ৮২ শতাংশ এলাকায় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের বেশি। ফার্মগেট, শাহবাগ ও গাবতলীর মতো এলাকায় তা ৮০ থেকে ১১০ ডেসিবেল পর্যন্ত ওঠে। এতে শ্রবণশক্তি ক্ষতি, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ছে।
দৃষ্টিদূষণের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ঢাকায় বিলবোর্ডের সংখ্যা ৫১ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৯৯৭টিতে পৌঁছেছে। এতে নগরের সৌন্দর্য ও বসবাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
"পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিকল্প সহজলভ্য করতে হবে।"
সেমিনারে বাপার পক্ষ থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, সরকারি কাজে ব্লক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং শিল্পকারখানায় অনলাইন বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর দাবি রয়েছে। এ ছাড়া শব্দদূষণের অভিযোগ জানাতে ৯৯৯ ও হটলাইনের প্রচার বাড়ানো, শব্দদূষণ বিধিমালা ২০২৫ কঠোরভাবে প্রয়োগ, যানবাহনের নিয়মিত শব্দ পরীক্ষা এবং রাত ১০টার পর এলইডি আলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করা হয়।
"রাত ১২টার পর দেশের সব বিলবোর্ড বন্ধ করলে দৃষ্টিদূষণ কমার পাশাপাশি বিদ্যুতের অপচয়ও কমবে। বর্ষার পর কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করা সব ইটভাটা বন্ধ করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তারেকদার (বাপা সভাপতি), শেখ ফরিদুল ইসলাম (পরিবেশমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ হাজার টন (দৈনিক বর্জ্য), ৭ হাজার ৫০০ টন (ঢাকায় দৈনিক বর্জ্য), ৫৫ শতাংশ (অপরিকল্পিত বর্জ্য), ৮ লাখ টন (বার্ষিক প্লাস্টিক বর্জ্য), ৩০ শতাংশ (নির্মাণকাজ থেকে দূষণ), ৮২ শতাংশ (শব্দদূষণের এলাকা), ৬০ ডেসিবেল (স্বাভাবিক শব্দসীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!