📌 জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আর কারও অধীনতা মেনে নেবে না এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে দৃঢ় থাকবে। তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা ও লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বলেছেন, বাংলাদেশ আর কারও অধীনতা মেনে নেবে না। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতি আর কারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। "ওই চ্যাপ্টার ক্লোজ। ওইটা আর রিওপেন হবে না" — এ কথায় তিনি দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আর কারও অধীনতা মেনে নেবে না এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে দৃঢ় থাকবে।
- 📌 তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বলেছেন, "এখানে আলোচনা হবে, লড়াইও হবে, তবে সমানে সমান"।
- 📌 ১৯৭১-এর পরের লুটপাট, দুঃশাসন, বাকশাল ও রক্ষীবাহিনীর গঠনকে সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, "জনগণের কণ্ঠস্বর দমনে গঠিত রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হলেও কোনো বিচার হয়নি"।
- 📌 তিনি বলেছেন, "দোষী, অপরাধী, চোর ও লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না"।
- 📌 বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, "২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এগিয়েছিল, কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেই গতি আর দেখা যাচ্ছে না"।
- 📌 তিনি গার্মেন্টস খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, দেশে মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে"।
- 📌 সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে তিনি সরাসরি "কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী" বলে সমালোচনা করেছেন।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আর কারও অধীনতা মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আত্মবিশ্বাসের সাথে পররাষ্ট্রনীতির দায়িত্ব পালন করা হবে। তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বলেছেন, "আমরা কারও অধীনতা মেনে নেবো না। এখন থেকেই শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে এবং সাহসের সঙ্গে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে হবে।"
বিরোধীদলীয় নেতা ১৯৭১-এর পরের ঘটনাবলীকে সমালোচনা করে বলেছেন, "একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর রচনা করে। রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হলেও কোনো বিচার হয়নি।" তিনি আরও বলেছেন, "সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বিডিআর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।" তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, "সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল, তা আজ পর্যন্ত অজানা।"
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "দোষী, অপরাধী, চোর ও লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না।" তিনি বলেছেন, "কেউ যদি দেশ ও জাতিকে ভালোবাসেন, তাহলে মাটি কামড়ে দেশে থাকতেন।" তিনি আরও বলেছেন, "সৎ মানুষ দেশ ছেড়ে পালায় না, ফাঁসি হলেও ফাঁসির মুখোমুখি হবে, জেলে নিলেও জেলে যাবে।"
বিরোধীদলীয় নেতা গার্মেন্টস খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে দেশে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।" তিনি সরকারকে শিল্প খাতকে রক্ষায় বিশেষ বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করবেন না।
"আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেবো না। এই দেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজ। ওইটা আর রিওপেন হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শফিকুর রহমান (বিরোধীদলীয় নেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!