📌 ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বেকার কর্মসংস্থান আন্দোলনের সক্রিয় নেতা ফরহাদ হোসেন (৩৫) পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে নিহত হন। নিহত ব্যক্তি সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য স্থানীয়দের বিরোধীতা পেয়েছিলেন।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় বেকার কর্মসংস্থান আন্দোলনের সক্রিয় নেতা ফরহাদ হোসেন (৩৫) পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে নিহত হন। গত বুধবার রাত ১০টায় মধ্যহিস্যা এলাকায় হামলাকারীরা তার শরীরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে তিনি পাশের জলাশয়ে লাফিয়ে পড়লেও বাঁচতে পারেননি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরহাদ হোসেন (৩৫) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে নিহত হন
- 📌 গত বুধবার রাত ১০টায় মধ্যহিস্যা এলাকায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার শরীরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়
- 📌 নিহত ব্যক্তি বেকার কর্মসংস্থান আন্দোলনের সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন
- 📌 মৃত্যু ঘটে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
- 📌 পুলিশ তদন্ত করছে হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে
📰 বিস্তারিত
মুক্তাগাছা পৌরসভার মধ্যহিস্যা এলাকায় বেকার কর্মসংস্থান আন্দোলনের সক্রিয় নেতা ফরহাদ হোসেনের মৃত্যু ঘটে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে। ফরহাদ হোসেনের বাবা আবদুস সাত্তারের ছেলে তিনি। তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার তারাটি ইউনিয়নের মৌশাদিয়া গ্রামে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড় ছিলেন। ফরহাদ আগে কৃষি উদ্যোক্তা ছিলেন এবং পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। তিনি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের দাবিতে ‘হানিফ বাংলাদেশী’র বেকার মুক্তি কর্মসংস্থানের দাবিতে আন্দোলনেও সোচ্চার ছিলেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে এলাকায় প্রচার চালিয়েছিলেন।
ফরহাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর মতে, তিনি সামাজিক আন্দোলন ও মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। ওই এলাকার একটি পরিত্যক্ত রাজবাড়ির পাশের বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকতেন ফরহাদ। ওই বাড়ির পাশে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসত। ফরহাদ প্রায়ই তাদের নিষেধ করতেন ও বাধা দিতেন। এলাকাবাসীর মতে, এই বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বুধবার রাত ১০টায় ফরহাদ বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুটা দূরে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা দুই দুর্বৃত্ত পেছন থেকে তার শরীরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় শরীরের আগুন নেভাতে তিনি পাশের জলাশয়ে লাফ দেন। ফরহাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
আবদুস সাত্তার, ফরহাদের বাবা, বলেন, “ফরহাদ সামাজিক আন্দোলন ও মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। এসব নিয়ে কিছু লোকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।”
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, “মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরহাদ পুলিশের কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে নির্জন স্থানে পৌঁছালে এক ব্যক্তি পেছন থেকে পেট্রল ছিটায় এবং অপরজন আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে তিনি হামলাকারীদের চিনতে পারেননি। ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ। হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি ও আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
"বাড়ি থেকে বের হয়ে নির্জন স্থানে পৌঁছালে এক ব্যক্তি পেছন থেকে পেট্রল ছিটায় এবং অপরজন আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে তিনি হামলাকারীদের চিনতে পারেননি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরহাদ হোসেন (৩৫), আবদুস সাত্তার, কামরুল ইসলাম (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ বছর বয়স, ১০ টা রাত, ১২ টা সাড়ে দুপুর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!