📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে বিভেদের বিপদ সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি এ সুযোগে পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। তিনি সংসদের সমাপনী অধিবেশনে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, ঋণখেলাপি ও দুর্নীতির সমাধান ও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতন্ত্রের ঐক্য ভাঙলে ফ্যাসিবাদী শক্তি সুযোগ পাবে বলে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে বিভেদের সুযোগ নেবেন পতিত ফ্যাসিস্টরা। তিনি আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় এই কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 "গণতন্ত্রের মধ্যে বিভেদের সুযোগ নেবে ফ্যাসিবাদী শক্তি" — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সতর্কবার্তা
- 📌 "গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে সরকার অজুহাত দেখাবে না" — প্রধানমন্ত্রী
- 📌 "বিরোধী দলের গাড়ি-লংমার্চে সমাধান নেই" — প্রধানমন্ত্রী
- 📌 "গত পাঁচ মাসে ৪ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার"
- 📌 "বাকস্বাধীনতা অবাধ থাকলেও বাকশালীনতা থেকে সতর্ক থাকতে হবে" — প্রধানমন্ত্রী
- 📌 "সংসদকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই" — প্রধানমন্ত্রী
📰 বিস্তারিত
গণতন্ত্রের মৌলিক মূল্যবোধের উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভিন্নমত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও তা শত্রুতায় রূপ নেয় না। তিনি বলেন, "গণতন্ত্রকামী শক্তির মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ তৈরি হলে এর সুযোগ নেবে পতিত ফ্যাসিস্টরা। গণতন্ত্রের মধ্যে বিভেদ পতিত ফ্যাসিস্টকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।" প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "ভিন্নমত থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু তা শত্রুতায় রূপ নেয় না। সরকারি দলই বলি আর বিরোধী দলই বলি — আসুন আমরা সবাই মিলে কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি।"
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সময়ের সঙ্গে এসব সমস্যা সমাধানে সরকার সক্ষম হবে। কোনো অজুহাত দেখিয়ে জনগণের সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।" তিনি বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে বলেন, "সংকট নিয়ে উসকানিমূলক আচরণ করা হলে যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাঁদের কষ্ট বাড়বে। এতে শেষ পর্যন্ত পতিত ফ্যাসিস্টরাই লাভবান হবে।"
গাড়ি-লংমার্চের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিরোধী দলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করেছে। গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।" তিনি আরও বলেন, "এক যুগের বেশি সময় বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস আহরণের চেষ্টা করা হয়নি।" প্রধানমন্ত্রী আগের সরকারের ঋণ বোঝার কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, "তারা পালিয়ে গেছে, কিন্তু জনগণের কাঁধে ঋণ রেখে গেছে।"
বর্তমান সরকারের সময়ে ঋণখেলাপির পরিমাণ কমে ৩২ শতাংশে এসেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "বিএনপি বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করবে।" প্রধানমন্ত্রী জানান, "গত পাঁচ মাসে সরকার বিদেশি ঋণের বিপরীতে ৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।"
দেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাকস্বাধীনতা অবাধ রয়েছে। তবে এই স্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।" তিনি গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার আহ্বান জানান।
"গণতন্ত্রকামী শক্তির মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ তৈরি হলে এর সুযোগ নেবে পতিত ফ্যাসিস্টরা। গণতন্ত্রকামী শক্তির মধ্যে বিভেদ-বিরোধ পতিত ফ্যাসিস্টকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় সংসদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ টা (বৈঠকের সময়), ৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার (বিদেশি ঋণ পরিশোধ), ৩২ শতাংশ (ঋণখেলাপি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!