📌 বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে ঘোষণা করেন, গণভোটের পর থেকে সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে গণভোটের সমর্থনে একমত থাকলেও শপথের পর থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, গণভোটের পর থেকে সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ দশমিক ২ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তবে শপথের দিন থেকেই সংস্কার বাস্তবায়নে সমস্যা শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গণভোটের পর সংস্কারের অগ্রগতি নেই: শফিকুর রহমান বলেন, ৬৮ দশমিক ২ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবায়নে কোনো সুরাহা নেই।
- 📌 শপথের দিন থেকে সমস্যা শুরু: তিনি উল্লেখ করেন, ‘ওই পর্যন্ত আমরা এক ছিলাম, কিন্তু শপথের দিন থেকে সমস্যা তৈরি হয়ে গেল’।
- 📌 ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্য প্রতিরোধের আহ্বান: বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যে দলই সরকার গঠন করুক, ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্য ফিরে না আসে সে নিশ্চয়তা দিতে হবে’।
- 📌 বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হারিয়ে গেছে: তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া বিচার বিভাগের স্বাধীন সচিবালয় গঠনের উদ্যোগ বর্তমান সরকারে হারিয়ে গেছে।
- 📌 জুলাই আন্দোলনের বিচার বিলম্বিত: শফিকুর রহমান দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় নিহতদের বিচার বিলম্বিত হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ের হত্যাকাণ্ডের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।
- 📌 উন্নয়ন তহবিলে বৈষম্য: সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের বরাদ্দ পেলেও বিরোধী দলের নারী সদস্যদের তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
- 📌 ভারত সম্পর্কে সমানতা দাবি: শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করা যায় না, তবে সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।
📰 বিস্তারিত
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সংসদ নির্বাচনের আমরা যতটুকু কার্যকারিতা পেলাম, কিন্তু গণভোটের বিষয়ে কোনো সুরাহা নেই’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমূল পরিবর্তনের’ লক্ষ্যে গণভোট হয়েছিল। তিনি সাধারণ আইন বা সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে কাঠামোগত সংস্কারের পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সংসদে কোনো সংশোধনী পাস হলেও পরে আদালতে তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ হতে পারে’। তিনি দাবি করেন, সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলে তার আইনি ভিত্তি আরও শক্ত হতো।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে’ বলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওয়াদা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান সরকারে সেই উদ্যোগ হারিয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, ‘জাতি এখানে এসে ধাক্কা খেল’। জুলাই আন্দোলনের সময় নিহতদের বিচার নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, পরবর্তী সময়ের হত্যাকাণ্ডের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।
উন্নয়ন তহবিল বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের বরাদ্দ পেলেও বিরোধী দলের নারী সদস্যরা তা পাননি’। তিনি উল্লেখ করেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব দেওয়ার পদ্ধতিও প্রশ্নবিদ্ধ।
ভারত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করা যায় না, তবে দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে’। তিনি সীমান্ত হত্যা, তিস্তা ও গঙ্গার পানি বণ্টনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কারও অধীনতা মেনে নেব না’।
"আমি মনে করি সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। আমি অনুরোধ করব, বিষয়টা সরকার যেন বিবেচনায় নিয়ে জনরায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জন-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুর রহমান (বিরোধীদলীয় নেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৮ দশমিক ২ (গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট), ১২ (ফেব্রুয়ারি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!