📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের সুযোগে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক পথে সমাধান খোঁজার জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে একসাথে কাজ করবে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের সুযোগে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ফরেন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ‘দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট: সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধান’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শেষে তিনি সাংবাদিকদেরকে এ কথা জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে** রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য বাংলাদেশের সভাপতিত্ব কাজে লাগাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
- 📌 **দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনায়** জোরদার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বাংলাদেশ, যার মধ্যে রয়েছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, আসিয়ানভুক্ত দেশ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা।
- 📌 **রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত** করতে এবং স্থায়ী সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করবে।
- 📌 **রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক সমস্যা** হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আর্থিক সহায়তা বাড়াতে এবং মিয়ানমারের সাথে আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
- 📌 **জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত** এই সংকটের সমাধানকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তবে দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় বলে জানান হুমায়ুন কবির।
📰 বিস্তারিত
‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আমরা আমাদের অবস্থানকে কাজে লাগাব। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় বৈশ্বিক মঞ্চে এই সংকটের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরা হবে’— এই কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকট যতই জটিল ও দীর্ঘায়িত হোক না কেন, বাংলাদেশ কূটনৈতিক পথে এর সমাধান খোঁজার জন্য আশাবাদী।
হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে আলোচনায় রাখা, আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের ধাপে ধাপে স্বদেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়ে একসাথে কাজ করবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মিয়ানমারে প্রভাবশালী দেশসমূহের সাথে আলোচনা করবে বাংলাদেশ। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে চীন, আসিয়ানভুক্ত দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা। তিনি বলেন, এই অংশীদারদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সচল রাখতে আর্থিকভাবে অবদান রেখেছেন।
হুমায়ুন কবির সতর্ক করে বলেন, ‘এ ধরনের জটিল বিষয়ে হুট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা যায় না। এখানে ধৈর্যের প্রয়োজন রয়েছে। তবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চালাতে হবে’। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
‘আমরা কালই এই সমস্যার সমাধান করে ফেলব- এমন দাবি করছি না। তবে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী’— এই কথা বলেন তিনি।
"রোহিঙ্গা সংকটকে কেবল বাংলাদেশের একার দায় হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্ব ও দায়ভার নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ফরেন একাডেমি), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!