📌 বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ২৮ অক্টোবরের পল্টন হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের তাণ্ডব চালানোর পিছনে সরকারের দুর্বলতার প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, চারদলীয় জোটের আমলে কীভাবে আওয়ামী লীগ দিনভর তাণ্ডব চালাতে পেরেছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন নিরুৎসাহিত ছিল
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ২৮ অক্টোবরের পল্টন হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের তাণ্ডব চালানোর পিছনে সরকারের দুর্বলতার প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কীভাবে আওয়ামী লীগ দিনভর তাণ্ডব চালাতে পেরেছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন নির্মম হত্যাকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করতে পারেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি উপলক্ষে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, চারদলীয় জোটের আমলে কীভাবে আওয়ামী লীগ দিনভর তাণ্ডব চালাতে পেরেছিল?
- 📌 আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারা দিন তাণ্ডব চালানোর সুযোগ দিয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, "সারা দিনভর মাগরিবের আগপর্যন্ত তারা তাণ্ডব চালানোর সুযোগ পেল কীভাবে?"
- 📌 আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট ক্লাব বলে অভিহিত করে শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, তারা সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে এবং নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চায়।
- 📌 ১৯৭২-৭৫ সালের সন্ত্রাস সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছিলেন এবং তাদের অপকর্মের বোঝা এত ভারী হয়েছিল যে তারা বাকশাল ও রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল।
- 📌 ২০০৬ সালের লগি-বৈঠা নিয়ে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আনা হয়েছিল মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য।
- 📌 বর্তমান সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান বলেন, "২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস" উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "তখনো তো চারদলীয় সরকার ছিল। সারা দিনভর, মাগরিবের আগপর্যন্ত তারা তাণ্ডব চালানোর এই সুযোগ পেল কীভাবে? এখানে কার দুর্বলতা ছিল?"
আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা ফ্যাসিস্টদের একটা ক্লাব। এরা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই এরা বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালিয়ে নিজেদের গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে তারা চেয়েছিল চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।"
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে সন্ত্রাস, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও নারীদের ইজ্জত নষ্ট করার ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, "শাসকের ছেলে ব্যাংক ডাকাত হয়েছিল। ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে খুন করা হয়েছিল। তাদের অপকর্মের বোঝা এত ভারী হয়ে গিয়েছিল, তারা বুঝতে পেরেছিল, এ দেশের মানুষ ভবিষ্যতে তাদের সমর্থন দেবে না। এ জন্য তারা বাকশাল ও রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল।"
জামায়াত নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, "এই বিচারের শেষ দেখে ছাড়বে জামায়াত। আওয়ামী লীগ কখনো স্বাভাবিকভাবে বিদায় নিতে পারেনি। ধিকৃত, লাঞ্ছিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। সে রাস্তা এখন অন্য কেউ অবলম্বন করতে চাইলে তাদের পরিণতিও ভিন্ন হবে না।"
আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা নিয়ে তিনি বলেন, "২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা-কর্মীদের লগি-বৈঠা হাতে ঢাকায় আসতে বলা হয়েছিল। রাজধানীতে পিচঢালা রাস্তায় নৌকা চলে না। এই লগি-বৈঠা আনা হয়েছিল মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য।"
"সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না। এই সাপই ছোবল দিয়ে কিন্তু শেষ করে দেবে।"
আলোচনা সভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "বিএনপি গণ-আকাঙ্ক্ষার অংশীজন হিসেবে নির্বাচনের আগে যে কথা দিয়েছিল, সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুর রহমান (জামায়াত আমির), মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ অক্টোবর, ১০ জানুয়ারি, ১৫ আগস্ট, ১০ হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!