📌 নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল-খানপুর এলাকায় ৮৫০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল। নাগরিক অধিকার ফোরামের দাবি, প্রকল্পটি পরিবেশ ও নগরজটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষণা দেখায় নদীতে ভারী ধাতু ও দূষণের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল-খানপুর এলাকায় ৮৫০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প। প্রকল্পটি নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়াতে পারে, কিন্তু পরিবেশগত ক্ষতি ও নগরজটের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন। গত ২৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম। সংগঠনটি দাবি করেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব, সড়কের ধারণক্ষমতা ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাই করা জরুরি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল-খানপুরে ৮৫০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প
- 📌 গবেষণা দেখায় নদীর ৭৫ কিলোমিটার অংশে পানির জৈব ও রাসায়নিক দূষণ বেড়েছে; শিল্পবর্জ্য ও ভারী ধাতু মাত্রা বিপজ্জনক
- 📌 ২০২৬ সালের গবেষণায় শীতলক্ষ্যার শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন পানিতে সিসা সহ চারটি ভারী ধাতুর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সীমা ছাড়িয়েছে
- 📌 নাগরিক অধিকার ফোরামের দাবি: প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব, সড়কের ধারণক্ষমতা ও বিদ্যমান পানগাঁও টার্মিনালের ব্যবহার যাচাই করা জরুরি
- 📌 প্রকল্পের সম্ভাব্য বার্ষিক পণ্য পরিবহন, পরিচালন ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
- 📌 ভারী ট্রাকের চলাচল নগরজট বাড়াতে পারে; সড়কের প্রস্থ ও সেতুর ভারবহনক্ষমতা যথেষ্ট কি না তা পরীক্ষা করা জরুরি
📰 বিস্তারিত
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল-খানপুর এলাকায় ৮৫০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নৌপথে পণ্য পরিবহন বাড়তে পারে, কিন্তু পরিবেশগত ক্ষতি ও নগরজটের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সংগঠন। গত ২৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম। সংগঠনটির দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব, সড়কের ধারণক্ষমতা, বিদ্যমান পানগাঁও টার্মিনালের ব্যবহার এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাই করতে হবে। বিকল্প হিসেবে শান্তিরচর, কয়লাঘাট কিংবা বন্দর এলাকার তুলনামূলক বিস্তৃত জায়গার কথাও বলেছে সংগঠনটি।
গবেষণা থেকে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর ৭৫ কিলোমিটার অংশে পানির জৈব ও রাসায়নিক দূষণ বেড়েছে। ২০২৫ সালের গবেষণায় দেখা যায়, নদীর পানির জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা প্রতি লিটারে ৬-১২ মিলিগ্রাম এবং রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা ৮-১৪ মিলিগ্রাম। এছাড়াও, ২০২৬ সালের গবেষণায় শীতলক্ষ্যার শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন পানিতে সিসা সহ চারটি ভারী ধাতুর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমা ছাড়িয়েছে। কিছু নমুনায় সিসার মাত্রা ছিল ওই সীমার সর্বোচ্চ ৪৫ গুণ। প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু প্রকল্পের সম্ভাব্য বার্ষিক পণ্য পরিবহন, আয়, পরিচালন ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতারা দাবি করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে নদীর তীর ভরাট, ড্রেজিং, পলি অপসারণ, নির্মাণসামগ্রী ও জাহাজের কার্যক্রম থেকে দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকল্পের নকশা ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন দেখে এসব ক্ষতির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব। তবে নদীটির বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগাম সতর্কতা অবলম্বনের যৌক্তিকতা রয়েছে।
"প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব, সড়কের ধারণক্ষমতা, বিদ্যমান পানগাঁও টার্মিনালের ব্যবহার এবং প্রকল্পের অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাই করতে হবে। বিকল্প হিসেবে শান্তিরচর, কয়লাঘাট কিংবা বন্দর এলাকার তুলনামূলক বিস্তৃত জায়গার কথাও বলেছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী (বরফকল-খানপুর এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রায়হান কবির (জেলা প্রশাসক), নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৫০ কোটি টাকা (প্রকল্প ব্যয়), ৭৫ কিলোমিটার (নদীর দূষিত অংশ), ১০টি (নমুনা সংগ্রহস্থল), ৪৫ গুণ (সিসার মাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!