📌 গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা সিপিবির কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে তারা গণতন্ত্র ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার ওপর আঘাতকে নিন্দা করেছেন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গণতন্ত্র ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার ওপর আঘাত হিসেবে সিপিবির কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জোরালো বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানিয়ে সংগঠনটির সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফী রতন বলেছেন, এই হামলা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়, এটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার বিরুদ্ধে নগ্ন আঘাত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৬ অক্টোবর রাত ১০টায় সিপিবির মুক্তিভবন কার্যালয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে সরকারদলীয় পরিচয় দিয়েই হামলাকারী দল কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করে। সিপিবির নেতা-কর্মীদের বাধা দিলে সহিংসতা শুরু হয় এবং কয়েকজন আহত হন।
- 📌 পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিরাপত্তা নেওয়ার পরও হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখেন।
- 📌 গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় মুক্তিভবন ছিল আন্দোলনের কেন্দ্র। এই কার্যালয়ে হামলা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে।
- 📌 বক্তারা বলেছেন, হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
- 📌 সমাবেশে বক্তব্য রাখেন: বজলুর রশীদ ফিরোজ (বাসদ), ডা. মুশতাক হোসেন (বাংলাদেশ জাসদ), ইকবাল কবির জাহিদ (বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ), মোশরেফা মিশু (গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি), আব্দুল আলী (সমাজতান্ত্রিক পার্টি), সৈয়দ হারুন অর রশীদ (সোনার বাংলা পার্টি), মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটন (বাসদ-মাহবুব)।
- 📌 সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা পল্টন মোড়, নূর হোসেন স্কয়ার ও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
📰 বিস্তারিত
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফী রতন বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও মতপার্থক্যের কারণে কোনো দল বা সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, নেতা-কর্মীদের ওপর আক্রমণ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অধিকার কারও নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে দমন করা যাবে না।
বক্তারা জানান, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি নিজেদের সরকারদলীয় কর্মী পরিচয় দিয়ে মুক্তিভবনের সামনে জড়ো হন। তারা দাবি করেন, সিপিবির কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের সদস্যরা অবস্থান করছেন। কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় সিপিবির নেতা-কর্মীরা বাধা দিলে হামলাকারীরা সহিংসতা শুরু করেন। তাদের হামলায় কয়েকজন আহত হন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিপিবির কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পরও হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবি লড়াই করেছে এবং দলটির বহু নেতা-কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও মুক্তিভবন ছিল আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই কার্যালয়ে হামলা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
"গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সব রাজনৈতিক দলের নিরাপদে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল্লাহ কাফী রতন (গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক), বজলুর রশীদ ফিরোজ, ডা. মুশতাক হোসেন, ইকবাল কবির জাহিদ, মোশরেফা মিশু, আব্দুল আলী, সৈয়দ হারুন অর রশীদ, মইনউদ্দিন চৌধুরী লিটন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ অক্টোবর (হামলার তারিখ), ১০ টা (হামলার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!