📌 সাজেক সড়কে ষষ্ঠ দিন অবরোধ চলছে। পর্যটন কেন্দ্রের অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে। প্রশাসন ও আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে
সাজেকের সড়কে ষষ্ঠ দিন অবরোধ চলছে। পর্যটন কেন্দ্রের অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে। গত সোমবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাজেক সড়কে ষষ্ঠ দিন অবরোধ চলছে, সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে
- 📌 গত সোমবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি, সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় অবরোধ অব্যাহত
- 📌 পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় রিসোর্ট-কটেজ, পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় দোকানপাটের ব্যবসায় ব্যাহত হচ্ছে
- 📌 অবরোধের আগে দুর্গাপূজার ছুটিতে সাজেকের অধিকাংশ রিসোর্ট-কটেজে অগ্রিম বুকিং ছিল, কিন্তু অবরোধের কারণে পর্যটকদের ভ্রমণ বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন
- 📌 সাজেকের রুইলুই রিসোর্টের পরিচালক মিশু দে বলেছেন, মৌসুমের শুরুতে অবরোধের কারণে ব্যবসায়ী, কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে ষষ্ঠ দিন অবরোধ চলছে। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। গত সোমবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার। এ দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। গত সোমবার বিকালে সাজেকের উজো বাজার এলাকায় সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সাজেক থেকে সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না পাওয়ায় সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি পূরণে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অবরোধ চলবে। এর আগে সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যরা। ২৫ অক্টোবর রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দুই জেলার হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এসব উদ্যোগের পরও এখন পর্যন্ত সংকট নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে গত ২২ অক্টোবর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর সাজেকের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক ভ্রমণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। গত ১১ অক্টোবরও একই ধরনের অবরোধের কারণে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর অবরোধ শিথিল থাকলেও ২২ অক্টোবর থেকে নতুন করে অবরোধ শুরু হয়। ফলে স্বল্প সময়ের জন্য পর্যটন কার্যক্রম চালু হওয়ার পর আবারও অচলাবস্থায় পড়েছে সাজেক।
"দাবি পূরণে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাজেক সড়ক, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা, পার্বত্য চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিশু দে (সাজেকের রুইলুই রিসোর্টের পরিচালক), আন্দোলনকারীরা, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ (দিন), ২৫ (অক্টোবর), ২২ (অক্টোবর), ১১ (অক্টোবর), ১৬-২১ (অক্টোবর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!