📌 জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৪৮টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সরাসরি মানবপাচার ও প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি নাগরিকদেরও এই চক্রের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে
জাতিসংঘের ইউক্রেন বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন রাশিয়ার যুদ্ধে মানবপাচার ও জোরপূর্বক নিয়োগের একটি ভয়াবহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে জোরপূর্বক ও প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় শিকারদের মধ্যে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের সংখ্যা বেশি। তারা মূলত আর্থসামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে সরাসরি মানবপাচার ও প্রতারণার প্রমাণ পেয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশসহ ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপিন্স, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ রয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে রাশিয়ায় প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত ব্যবসায়ী ভিসার অনুলিপি সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিসায় বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণ উল্লেখ থাকলেও, মূল উদ্দেশ্য ছিল রুশ বাহিনীতে নিয়োগ।
- 📌 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, ইলেকট্রিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো চাকরির প্রলোভন দেওয়া হত। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের ফোন ও পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং রুশ ভাষায় লেখা সামরিক চুক্তিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হত।
- 📌 যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো শিকারদের মধ্যে অনেকেই নিহত, আহত, বন্দি বা নিখোঁজ হয়েছে। তাদের পরিবার চরম মানসিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
- 📌 জাতিসংঘের কমিশন রাশিয়াকে অবিলম্বে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করে দিতে এবং পাচারের শিকার ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের ইউক্রেন বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগের ঘটনায় ৪৮টি দেশের নাগরিকদের মধ্যে ২৯টি দেশের নাগরিকদের সরাসরি মানবপাচার ও প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশসহ ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপিন্স, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, উজবেকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ রয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, তদন্ত কমিশন বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত ব্যবসায়ী ভিসার অনুলিপি সংগ্রহ করেছে। এসব ভিসায় রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে কাগজপত্রে বেসামরিক ভ্রমণের উদ্দেশ্য উল্লেখ থাকলেও, মূল উদ্দেশ্য ছিল রুশ বাহিনীতে নিয়োগ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও এজেন্সির মাধ্যমে নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, ইলেকট্রিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পেশায় চাকরির প্রলোভন দেওয়া হত।
রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর শিকারদের ফোন ও পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হত এবং রুশ ভাষায় লেখা সামরিক চুক্তিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হত। এক ভুক্তভোগী বাংলাদেশির স্ত্রী বলেছেন, “পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে শুধু রুশ ভাষায় লেখা চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় আমার স্বামীকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন তিনি, আর কোনো উপায় ছিল না।”
জোরপূর্বক চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর শিকারদের অত্যন্ত কম সময়ের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হত এবং সরাসরি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হত। ফলে তাদের মধ্যে অনেকেই নিহত, আহত, বন্দি বা নিখোঁজ হয়েছে। বর্তমানে এসব ভুক্তভোগীদের পরিবার চরম মানসিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। দালালের টাকা মেটাতে অনেক পরিবার সহায়-সম্পত্তি বিক্রি বা ঋণ করেছেন। স্বজনের মৃত্যুর সংবাদ মিললেও লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি এবং পাচারকারী চক্রগুলো পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
"পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে শুধু রুশ ভাষায় লেখা চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় আমার স্বামীকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন তিনি, আর কোনো উপায় ছিল না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাশিয়া, ইউক্রেন (যুদ্ধক্ষেত্র), বিভিন্ন দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এজেন্সি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের সদস্য, ভুক্তভোগী বাংলাদেশি নাগরিকের স্ত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯টি দেশের নাগরিক, ৪৮টি দেশের নাগরিকদের তদন্ত, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়স, ৫৪ জন বাংলাদেশি নিহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!