📌 বাংলাদেশ সরকার মনে করে শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ ব্যয় করে নাশকতা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সরকার সহানুভূতিশীল পদক্ষেপ নিচ্ছে
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ ব্যয় করে নাশকতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলতে পারে এবং সরকার এসবকে প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সরকারের সতর্কতা**: শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলতে পারে বলে মনে করছে সরকার।
- 📌 **নাশকতার অভিযোগ**: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ ব্যয় করে নাশকতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলতে পারে।
- 📌 **মজুরি বোর্ড গঠন**: পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য সরকার সহানুভূতিশীল অবস্থান থেকে আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
- 📌 **অস্থিরতা মোকাবিলা**: সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে বল প্রয়োগ করতে বলেছে, যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি কম হয়।
- 📌 **শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়**: ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পর সরকার শেখ হাসিনার ফেরার বিষয়ে আবার কথা বলবে বলে জানানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘পোশাকশ্রমিকদের মজুরি সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনা করা হয়। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৩ সালের পর ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সহানুভূতিশীল অবস্থান থেকে আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বুঝতে প্রস্তুত আছি, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। আমাদের গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। এতে কোনো ভুল নেই। মূল্যস্ফীতি আছে, জ্বালানির মূল্য বাড়ছে এবং এর সূত্র ধরে অনেক কিছুরই মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। সরকার সহানুভূতিশীল হয়েই আগেই এই কমিশন তৈরি করেছে। ফলে সমস্যাটার মূল আন্দোলনের যে দাবি, সেটা তো আসলে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।’
সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু মানুষের মধ্যে যে ধরনের সহিংস আচরণ দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব ঘটনার সাথে সীমান্তের ওপারের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও তাদের কাছে থাকা বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।’
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টি শুধু ডিসেম্বরকেন্দ্রিক নয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের চেষ্টা চলতে পারে বলে সরকার মনে করে।’ তিনি বলেন, ‘এটা ডিসেম্বর না। এটা পুরো সময়, যতদিন উনি বেঁচে আছেন, উনার এই চেষ্টা চলবে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা এটাকে প্রতিহত করবো।’
"ওই সময় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এই সরকারকে এক দিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। সেই মানসিকতার প্রতিফলন এখনো থাকতে পারে"
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘ডিসেম্বর শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আবার কথা বলবেন। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে আসেন, তাহলে নিজের আগের ব্যাখ্যা ভুল প্রমাণিত হলে তিনি প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করবেন। উনি যদি এসে হাজির হন, তারপর একটা মঙ্গলবার নিশ্চয়ই আসবে। সেই মঙ্গলবার আমি আশা করি, যদি বেঁচে থাকি এবং আমি যদি এই দায়িত্বে থাকি, আমি আসব। সেদিন আমি অ্যাপোলজাইজ করব, আমার ইন্টারপ্রিটেশন ভুল ছিল।’
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত, কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার আগের মতো দমন-পীড়নের পথ অনুসরণ করতে চায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইন মেনে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আনুপাতিক হারে বল প্রয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশের পুলিশ কখনোই হাসিনার পুলিশের মতো আর হবে না। নাগরিক হিসেবে তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বল প্রয়োগের আইনি অধিকার রয়েছে। তবে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং আনুপাতিক হতে হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. জাহেদ উর রহমান (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮, ২০২৩ (মজুরি পুনর্নির্ধারণের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!