📌 জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া দাবি করেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজনৈতিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংঘটিত পদোন্নতির ঘটনায় তাঁকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া দাবি করেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংঘটিত একটি পদোন্নতির ঘটনায় তাঁকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পদোন্নতি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ কীভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভব?’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুদকের রাজনৈতিক ব্যবহার: আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন, দুদক রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।
- 📌 অভিযোগের ভিত্তিহীনতা: দুদকের অভিযোগে উল্লেখিত ৩৮ জন কর্মকর্তার দায়িত্ব বাতিলের প্রকৃত সংখ্যা ১১২ জন। এছাড়াও, ১৫০ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদ কোনো ভূমিকা রাখেননি।
- 📌 আদালতের রায় বাস্তবায়ন: ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী ১১২ জন কর্মকর্তার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল।
- 📌 পদোন্নতির সময়কাল: ১৫০ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি ২০২৬ সালের ১১ মে হয়। আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে।
- 📌 মিডিয়া ট্রায়াল: দুদকের মুখপাত্রের প্রথম বক্তব্যে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলা হয়, পরে তা প্রত্যাহার করা হয়নি। আসিফ মাহমুদ এই ঘটনাকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে দেখছেন।
📰 বিস্তারিত
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির অভিযোগের তথ্যসহ ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করলে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য ও অভিযোগের তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার।
আসিফ মাহমুদ জানান, একটি অভিযোগে ৩৮ জন কর্মকর্তার দায়িত্ব বাতিলের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ১১২ জন কর্মকর্তার দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁদের দায়িত্ব বাতিল করা হয়।
অন্য অভিযোগে ১৫০ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে পদায়নের বিনিময়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, এই পদোন্নতির আদেশ ২০২৬ সালের ১১ মে হয়। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়। ফলে এই পদোন্নতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না।
আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তখনকার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান না করে তাঁর বিরুদ্ধে কেন অনুসন্ধান করা হচ্ছে? তিনি দাবি করেছেন, দুদক অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করলে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করার আগে অভিযোগের সময়কাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্বে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারত।
"বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পদোন্নতি করি, টাকা নিই—এটা কীভাবে সম্ভব? দুদক রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ জন (অভিযোগে উল্লেখিত কর্মকর্তা), ১১২ জন (প্রকৃত দায়িত্ব বাতিলকৃত কর্মকর্তা), ১৫০ জন (পদোন্নতির অভিযোগে উল্লেখিত কর্মকর্তা), ২ কোটি টাকা (অভিযোগে উল্লেখিত টাকার পরিমাণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!