📌 ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে প্রথম প্রতিরোধের সঙ্কেত দেন সিনিয়র অফিসাররা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের অচল অবস্থা ও শৃঙ্খলাহীনতা নিয়ে কর্নেল শাফায়াত জামিল ও ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে গোপন আলোচনা শুরু হয়। বই ‘পঁচাত্তরের অস্থির সময়’ থেকে এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে রূপান্তরিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিহত হওয়ার মাত্র তিন মাস পর সেনাবাহিনীতে প্রথম প্রতিরোধের সঙ্কেত দেন সিনিয়র অফিসাররা। প্রথম আলো প্রকাশিত বই ‘পঁচাত্তরের অস্থির সময়: ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের অকথিত ইতিহাস’ থেকে হুমায়ুন কবিরের লেখা ‘৩ নভেম্বর প্রথম প্রতিরোধ’ অংশে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। বইটি সম্পাদনা করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসাররা ৩ নভেম্বর থেকে প্রতিরোধের সঙ্কেত দেন, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না।
- 📌 সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান কোনো ডেফিনিট অ্যাকশন নিতে পারছিলেন না, ফলে কর্নেল শাফায়াত জামিল ও ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে গোপন আলোচনা শুরু হয়।
- 📌 ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিল ও তার অধীনে থাকা তিনটি পদাতিক, একটি আর্টিলারি ও একটি ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের অফিসাররা ১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
- 📌 সিনিয়র অফিসারদের বৈঠকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি উঠে, কিন্তু সেনাপ্রধান জিয়া কোনো স্পষ্ট নির্দেশ দেননি।
- 📌 ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা চরমে পৌঁছায়, যেখানে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের পর পাল্টা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা গড়ে ওঠে।
📰 বিস্তারিত
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যার পর সেনাবাহিনীতে অসন্তোষের লহর ছড়িয়ে পড়ে। সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ ও খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে আলোচনা হয়, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি। নতুন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানও কোনো স্পষ্ট নির্দেশ দিতে পারছিলেন না। কর্নেল শাফায়াত জামিলের অধীনে থাকা তিনটি পদাতিক, একটি আর্টিলারি ও একটি ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন কমান্ডাররা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সোচ্চার ছিলেন।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে ১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সঙ্কেত দিতে শুরু হয়। কর্নেল শাফায়াত জামিল ও ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সিনিয়র অফিসারদের বৈঠকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি উঠে। তবে সেনাপ্রধান জিয়া কোনো স্পষ্ট নির্দেশ দেননি। জুনিয়র অফিসাররা বুঝতে পারলেন যে জিয়া কোনো অ্যাকশন নেবেন না। এরপর কর্নেল শাফায়াত জামিল, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন অফিসারদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
সেনাপ্রধান জিয়া বঙ্গভবনে যাওয়ার সময় ফারুক ও রশিদের নির্দেশ মেনে চলতেন। তিনি অনেক অফিসারের ট্রান্সফার ও পোস্টিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা ফারুক-রশিদদের সুবিধার জন্য করা হয়েছিল। জুনিয়র অফিসাররা বুঝতে পারলেন যে জিয়া কোনো অ্যাকশন নেবেন না। এরপর ব্রিগেডিয়ার খালেদ ও কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য গোপন আলোচনা শুরু হয়।
"সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে, আমরা কীভাবে আমাদের ইউনিট কমান্ড করব, এভাবে চলতে পারে না"
৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা চরমে পৌঁছায়। এই সময়ে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের পর পাল্টা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা গড়ে ওঠে। বই ‘পঁচাত্তরের অস্থির সময়’ এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কর্নেল শাফায়াত জামিল, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, জেনারেল জিয়াউর রহমান, শেখ মুজিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ নভেম্বর, ৭ নভেম্বর, ১৫ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!