📌 জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার, মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই পক্ষের তর্ক-বিতর্ক ও ওয়াকআউটের ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংসদীয় কার্যক্রম ব্যাহত হলে জাতির জন্য তা ক্ষতিকর হবে
জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার, মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই পক্ষের তর্ক-বিতর্ক ও ওয়াকআউটের ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪-এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ দিন দিন তীব্র হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন শুরু হয় গত বছরের ১২ মার্চ
- 📌 বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে প্রথম অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে
- 📌 সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিল নিয়ে বিরোধী দল সংসদ ত্যাগ করে
- 📌 সংসদে মোট ৫০টি কমিটির মধ্যে প্রথম দুই অধিবেশনে গঠিত হয়েছে মাত্র ১৫টি
- 📌 বিরোধী দল জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে তাদের অংশীদারিত্ব দাবি করছে
📰 বিস্তারিত
জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার, মানবাধিকার কমিশন গঠন ও গুম প্রতিরোধ বিলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ওয়াকআউটের ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪-এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ দিন দিন তীব্র হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত বছরের ১২ মার্চ। সেদিনই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় অধিবেশনেও একাধিকবার ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনের বিরোধিতা করে বিরোধী দল সংসদ ত্যাগ করে।
সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিরোধী দলের ওয়াকআউটকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বারবার বিরোধ তৈরি হলে তা ধীরে ধীরে সংসদ বর্জনের পথ তৈরি করতে পারে।
জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সাংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং ১১টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি। সংবিধান অনুসারে তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যে এই কমিটিগুলো গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে প্রথম দুই অধিবেশনে মাত্র ১৫টি কমিটি গঠিত হয়েছে।
বিরোধী দল জুলাই সনদ অনুযায়ী সরকারি হিসাব কমিটি, বিশেষ অধিকার কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে তাদের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের সদস্যদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে।
‘এটা আমাদের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ভালো নয়। সরকার ও বিরোধী দল—দুই পক্ষই একেবারে হার্ড লাইনে চলে গেলে ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়বে এবং সাংসদীয় কার্যক্রম ব্যাহত হবে।’ — অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: নিজাম উদ্দিন আহমেদ (সংসদবিষয়ক গবেষক), সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০টি (সাংসদীয় কমিটি), ১৫টি (গঠিত কমিটি), ১২ মার্চ (প্রথম অধিবেশন), ২৭ আগস্ট (সর্বশেষ ওয়াকআউট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!