📌 হলিউড তারকা সালমা হায়েকের ৬০তম জন্মদিনে তাঁর জীবনের উত্থান-পতনের গল্প উঠে এলো। মেক্সিকো থেকে হলিউড পর্যন্ত তাঁর যাত্রায় ছিল ভাষা, উচ্চতা ও ক্ষমতাবানদের চাপের বিরুদ্ধে লড়াই। ফ্রিদা চলচ্চিত্রে প্রযোজনা ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অস্কারের মনোনয়ন পান
আজ ২ সেপ্টেম্বর হলিউড অভিনেত্রী সালমা হায়েকের ৬০তম জন্মদিন। মেক্সিকোয় জন্মগ্রহণকারী এই অভিনেত্রী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে ভাষা, উচ্চতা ও ক্ষমতাবানদের চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করে হলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ থাকলেও শুরুতে পরিবারের বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল সালমাকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সালমা হায়েকের জন্মদিন আজ ২ সেপ্টেম্বর, তাঁর বয়স ৬০ বছর
- 📌 অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও শুরুতে পরিবারের বিরোধিতা ছিল তাঁর
- 📌 মেক্সিকোর টেলিভিশনে অভিনয় দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন সালমা
- 📌 ১৯৯৫ সালে ‘ডেসপেরাডো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে হলিউডে পরিচিত হন
- 📌 ‘ফ্রিদা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় ও প্রযোজনার মাধ্যমে অস্কারের মনোনয়ন পান
- 📌 চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় প্রযোজকের চাপে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানান সালমা
- 📌 ৩০ বছর বয়সে নিজেকে ব্যর্থ মনে করেছিলেন সালমা
- 📌 তাঁর উচ্চতা ছিল ৫ ফুট ২ ইঞ্চি
📰 বিস্তারিত
মেক্সিকোর টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ থেকে হলিউডের অন্যতম পরিচিত লাতিনা তারকা হয়ে ওঠার পথটি সালমা হায়েকের জন্য সহজ ছিল না। অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ থাকলেও শুরুতে পরিবারের বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল সালমাকে। তিনি মেক্সিকোয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। একসময় তাঁর পরিকল্পনা ছিল কূটনীতিক হওয়ার। কিন্তু ১৮ বছর বয়সে তিনি বাবাকে জানান, অভিনয় করবেন। তাঁর উচ্চতা ছিল মাত্র ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, যা তাঁকে শুরু থেকেই হতাশায় ফেলেছিল।
১৯৮৯ সালে মেক্সিকোর ‘টেলিনোভেলা’ সিরিজের তেরেসা চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় হন। পরে মেক্সিকোর সিনেমায় কাজ করার পাশাপাশি থিয়েটারেও অভিনয় করেন। কিন্তু সেখানেও ছিল নতুন বাধা—তীব্র মঞ্চভীতি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, কখনো কখনো মঞ্চে উঠতেই তাঁর এতটা ভয় লাগত যে তাঁকে পার্কিং এলাকা থেকে টেনে নিয়ে যেতে হতো।
১৯৯১ সালে সালমা লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমান ইংরেজি শেখা ও হলিউডে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তখন বিদেশি, বিশেষ করে লাতিনা অভিনেত্রীর জন্য হলিউডে প্রধান চরিত্র পাওয়া ছিল কঠিন। তাঁর নিজের ভাষায়, অনেকেই তাঁর হলিউডে বড় ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে হাসাহাসি করতেন। কিছু কাজের পরে তিনি ১৯৯৫ সালে ‘ডেসপেরাডো’ সিনেমায় অ্যান্টোনিও বান্দেরাসের বিপরীতে অভিনয় করে যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ‘ফ্রিদা’ চলচ্চিত্র। ২০০২ সালের মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে মেক্সিকান চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো চরিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি এটি প্রযোজনাও করেন সালমা। সিনেমাটি ছয়টি অস্কার মনোনয়ন পায়। হায়েক পান সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন, যা তাঁকে এই বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া প্রথম মেক্সিকান অভিনেত্রীতে পরিণত করে।
তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় সালমা হায়েককে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। হলিউড প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিন তাঁর ওপর যৌন হয়রানি, চাপ ও হুমকি প্রয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন সালমা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সিনেমাটি শেষ করার জন্য আমাকে এমন একটি নগ্ন যৌন দৃশ্যে অভিনয় করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল, যা মূল চিত্রনাট্যে ছিল না।’ সেই দৃশ্যের শুটিংয়ের দিন তাঁর নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল—শরীর কাঁপছিল, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং তিনি কাঁদছিলেন।
৩০ বছর বয়সে সালমা হায়েক জীবনের আরেকটি কঠিন সময় পার করেছিলেন। তিনি বলেন, ৩০ বছর পূর্তির দিন তিনি কেঁদেছিলেন। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, এই বয়সে এসে তাঁর আরও বেশি সাফল্য পাওয়ার কথা ছিল। নিজেকে ব্যর্থ, একাকী, কিছুটা পথহারা ও ভীত মনে হয়েছিল তাঁর। তবে জীবনের ৪০-এর দশকে এসে সেই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, জীবন নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী সব সময় এগোয় না এবং সেটি মেনে নেওয়ার মধ্যেও একধরনের শান্তি আছে।
"সিনেমাটি শেষ করার জন্য আমাকে এমন একটি নগ্ন যৌন দৃশ্যে অভিনয় করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল, যা মূল চিত্রনাট্যে ছিল না। সেই দৃশ্যের শুটিংয়ের দিন তাঁর নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল—শরীর কাঁপছিল, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং তিনি কাঁদছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেক্সিকো ও হলিউড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সালমা হায়েক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ বছর, ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, ১৯৮৯ সাল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!