📌 বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটা ১০০টি বায়োইকুইভ্যালেন্ট ওষুধ উৎপাদনের মাধ্যমে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উত্তীর্ণ হয়ে তারা এসব ওষুধ রপ্তানি করছে
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে রেনাটা লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি একশটি বায়োইকুইভ্যালেন্ট ওষুধ উৎপাদন করে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। রেনাটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এস কায়সার কবির জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অতিক্রম করে তারা এই সাফল্য অর্জন করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রেনাটা লিমিটেড দেশের প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১০০টি বায়োইকুইভ্যালেন্ট ওষুধ উৎপাদনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পূরণ করে তারা এসব ওষুধ রপ্তানি করছে
- 📌 বায়োইকুইভ্যালেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অর্থ হলো জেনেরিক ওষুধ মূল ওষুধের মতোই কার্যকর
- 📌 রেনাটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এস কায়সার কবির জানান, ২০১৫ সালে বিদেশে ওষুধ রপ্তানির চিন্তা থেকেই এই যাত্রা শুরু
- 📌 বায়োইকুইভ্যালেন্ট পরীক্ষায় অংশ নেন ২০০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবক, যাদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে
📰 বিস্তারিত
১৯৯৩ সালে ফাইজার ল্যাবরেটরিজ (বাংলাদেশ) লিমিটেড থেকে রূপান্তরিত হয়ে যাত্রা শুরু করে রেনাটা লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষকে স্বল্প মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ সরবরাহ করা এবং বিদেশে ওষুধ রপ্তানি করা। সৈয়দ এস কায়সার কবির জানান, ২০১৫ সালের দিকে বিদেশে ওষুধ রপ্তানির চিন্তা থেকেই তারা বায়োইকুইভ্যালেন্ট ওষুধ উৎপাদনের দিকে মনোনিবেশ করেন।
তিনি বলেন, "ইউরোপের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, রেনাটার কয়টি বায়োইকুইভ্যালেন্ট পণ্য আছে। আমি উত্তর দিয়েছিলাম, একটিও না। তখন তিনি বলেছিলেন, তাহলে তোমার তো কোনো পণ্যই নেই। এরপর থেকেই আমরা বায়োইকুইভ্যালেন্ট ওষুধ তৈরির দিকে মনোনিবেশ করি।"
বায়োইকুইভ্যালেন্ট ওষুধ হলো এমন ওষুধ যা মূল পেটেন্টেড ওষুধের মতোই কার্যকর। এর অর্থ হলো, যখন দুটি ভিন্ন প্রস্তুতকারকের ওষুধে একই জেনেরিক উপাদান এবং একই শক্তি থাকে, তখন সেগুলো মানবদেহে প্রয়োগের পর রক্তের প্লাজমায় ওষুধের শোষণের হার এবং মোট পরিমাণ সমমানের হয়।
"বায়োইকুইভ্যালেন্স হলো ওষুধ খাতের মান নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক মাপকাঠি। এই মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হলে ওষুধ রপ্তানি করা যায়।" — সৈয়দ এস কায়সার কবির, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রেনাটা লিমিটেড
বায়োইকুইভ্যালেন্ট পরীক্ষা পরিচালনা করা হয় সুস্থ স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর। সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় ২০০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন করা হয়। প্রথমে তাঁদের শরীরে মূল আবিষ্কারকের ওষুধ নির্দিষ্ট মাত্রায় দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় পর তাঁদের শরীর থেকে ওষুধ সম্পূর্ণ বের হয়ে গেলে একই মাত্রায় পরীক্ষাধীন জেনেরিক ওষুধ দেওয়া হয়। ওষুধ সেবনের পর নির্দিষ্ট সময় পরপর (১৫ মিনিট, ৩০ মিনিট, ১ ঘণ্টা, ২ ঘণ্টা ইত্যাদি) তাঁদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনা বিশ্লেষণ করে মূলত তিনটি প্রধান উপাদান পরিমাপ করা হয়: রক্তে ওষুধের সর্বোচ্চ ঘনত্ব, সর্বোচ্চ ঘনত্বে পৌঁছাতে কত সময় লাগে এবং রক্তে মোট শোষিত ওষুধের পরিমাণ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ এস কায়সার কবির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০টি বায়োইকুইভ্যালেন্ট ওষুধ, ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!