📌 প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য ‘পুঁথিপাঠ’ পুনরুজ্জীবিত করতে পাবনার চাটমোহরে প্রদীপের আলোয় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই আসরে অংশ নেন গ্রামের সব শ্রেণির মানুষ
প্রযুক্তির দাপট ও আধুনিক বিনোদনের যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ‘পুঁথিপাঠ’। এই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে পাবনার চাটমোহরের বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারা পাড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী এক পুঁথিপাঠের আসর। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহ ধরে রাখতে চারপাশ অন্ধকার রেখে কেবল কুপি ও হারিকেনের আলোয় আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনার চাটমোহরের বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারা পাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয় পুঁথিপাঠের বিশেষ আসর
- 📌 বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহ ধরে রাখতে চারপাশ অন্ধকার রেখে কুপি ও হারিকেনের আলোয় আয়োজন করা হয়
- 📌 স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও চিকিৎসক এস এম আতিকুল আলমের নেতৃত্বে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানটি
- 📌 ‘হানিফ পালোয়ান ও বিবি সোনাভান’ এবং ‘গাজী কালু ও চম্পাবতী’ শীর্ষক পুঁথি পরিবেশন করেন যথাক্রমে আসাদুজ্জামান দুলাল ও মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক
- 📌 স্থানীয় তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত দল পুরো অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা করে
📰 বিস্তারিত
স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও মুঠোফোনের যুগে গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ‘পুঁথিপাঠ’ প্রায় বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামের মানুষ দিনের ক্লান্তি শেষে সুরের মূর্ছনায় পুঁথি শুনে বিনোদন পেতেন। কিন্তু প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এই হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পাবনার চাটমোহরের বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহারা পাড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী এক পুঁথিপাঠের আসর।
বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণ সংস্কৃতির আবহ ধরে রাখতে চারপাশ অন্ধকার রেখে কেবল কুপি ও হারিকেনের আলোয় আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান। বাঁশের চাটাই ও পাটিতে বসে গ্রামের সব শ্রেণির মানুষ— ছোট থেকে বড়, নারী থেকে পুরুষ— মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন এই আসর। আয়োজকদের উদ্যোগে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা পুরো অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান দুলাল ‘হানিফ পালোয়ান ও বিবি সোনাভান’ এবং মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক ‘গাজী কালু ও চম্পাবতী’ শীর্ষক পুঁথি থেকে সুর করে পাঠ পরিবেশন করেন। সাজল বিশ্বাস, বিপ্লব আচার্য, নিয়ামুল মুক্তা, শিক্ষক আবদুল মান্নানসহ স্থানীয় একদল তরুণ পুরো অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন।
"একসময় দিনের ক্লান্তি শেষে গ্রামের মানুষ সুরের মূর্ছনায় পুঁথি শুনে বিনোদন পেতেন। কিন্তু স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও মুঠোফোনের যুগে এই শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মকে নিজস্ব শিকড় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। সবাই মনপ্রাণ দিয়ে পুঁথিপাঠ উপভোগ করেছেন। ভবিষ্যতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।"
আয়োজক চিকিৎসক এস এম আতিকুল আলম বলেন, ভবিষ্যতে চলনবিল অঞ্চলে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠক এস এম মিজানুর রহমান শৈশবের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আগে দাদা-নানাদের মুখে পুঁথি শুনতাম, এখন আর সেই পাঠক পাওয়া যায় না। ইতিহাসের গল্প ও লোকসংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে এগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোনাহারা পাড়া, বিলচলন ইউনিয়ন, চাটমোহর, পাবনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এস এম আতিকুল আলম, আসাদুজ্জামান দুলাল, মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক, এস এম মিজানুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: একদল তরুণ (গণনা নির্দিষ্ট নয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!