📌 ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত ভিএঅস সংগঠন অস্ট্রেলিয়ার আটটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তারা পারিবারিক সহিংসতা ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধির সমস্যা সমাধানে 'চেঞ্জ দ্য স্টোরি' ও 'শেয়ার দ্য ডিগনিটি' প্রকল্প চালু করেছে
অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজের একটি অলাভজনক সংগঠন ভিকারুন্নিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) বন্ধুত্বের বন্ধন থেকে বদল নিয়ে নারীদের পারিবারিক সহিংসতা ও স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে। সংগঠনটি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২২ সালে দাতব্য সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার আটটি প্রাদেশিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই সংগঠনটি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ভিএঅস সংগঠন অস্ট্রেলিয়ার আটটি অঞ্চলে কাজ করে
- 📌 সংগঠনটি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে 'চেঞ্জ দ্য স্টোরি: মেন অ্যাজ চ্যাম্পিয়নস' প্রকল্প চালু করেছে
- 📌 'হার বিজনেস' প্রকল্পের মাধ্যমে ১২ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যারা বর্তমানে কর্মরত
- 📌 মাসিক স্বাস্থ্যবিধির সমস্যা সমাধানে 'শেয়ার দ্য ডিগনিটি' উদ্যোগে স্কুল ও পাবলিক টয়লেটে সামগ্রী বিতরণ করা হয়
📰 বিস্তারিত
ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একই শ্রেণিকক্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করলেও তাদের বন্ধন অক্ষুণ্ণ রেখেছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সিডনিতে এক রেস্টুরেন্টে মিলিত হয়ে তারা ভিএঅস সংগঠনটি গঠন করেন। সংগঠনটি প্রথমে পারিবারিক সহিংসতার সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় (২০১৯) বিশ্বজুড়ে নারীদের ওপর পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে খুব কাছের হয়ে ওঠে। এক সহপাঠী গর্ভবতী অবস্থায় বাড়ি থেকে পালাতে বাধ্য হন, যা সংগঠনের সদস্যদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।
সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা ড. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান বলেন, ‘আমরা শুধু ভুক্তভোগীদের সাহায্য করছি, কিন্তু এটাই কি যথেষ্ট? যাঁরা এই সহিংসতার কারণ, তাঁদের নিয়ে কী করব?’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংগঠনটি 'চেঞ্জ দ্য স্টোরি: মেন অ্যাজ চ্যাম্পিয়নস' প্রকল্প শুরু করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরুষদের পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে কথা বলার এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সঙ্গে সঙ্গে সংগঠনটি 'হার বিজনেস' প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেয়। এই প্রকল্পের আওতায় আটটি কর্মশালায় ১২ জন নারীকে সেলাই ও ঘরোয়া ব্যবসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই প্রশিক্ষিত নারীরা সবাই কর্মরত আছেন। এছাড়া, সংগঠনটি পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রের উন্নতির জন্য ১ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার সংগ্রহ করেছে।
সহিংসতা প্রতিরোধের পাশাপাশি সংগঠনটি মাসিক স্বাস্থ্যবিধির সমস্যা সমাধানে 'শেয়ার দ্য ডিগনিটি' উদ্যোগ গ্রহণ করে। জেনারেল সেক্রেটারি রিফায়াত রোনাক ইকো বলেন, ‘মাসিককালীন সামগ্রী একটি মৌলিক প্রয়োজন। কোনো নারীর তা কেনার সামর্থ্য না থাকলে তার স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে আপস করতে হবে না।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্কুল, পাবলিক টয়লেট ও কেয়ার হ্যাম্পারে মাসিক সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
"আমরা শুধু ভুক্তভোগীদের সাহায্য করছি। কিন্তু এটাই কি যথেষ্ট? যাঁরা এই শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ, তাঁদের নিয়ে কী করব?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অস্ট্রেলিয়া (আটটি প্রাদেশিক অঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান, ড. মাহবুবা খানম মুক্তা, রিফায়াত রোনাক ইকো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন প্রশিক্ষিত নারী, ১ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার সংগ্রহ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!