📌 পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষের কেউই আসন্ন উপনির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী জোড়া ফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন প্রতীক ও দলনাম স্থগিত করে, বিকল্প প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে বলেছে। বিভক্তির পেছনে রয়েছে নেতৃত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিভক্ত দুই পক্ষের কেউই আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী জোড়া ফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। ভারতের নির্বাচন কমিশন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামও উপনির্বাচনে ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে বিকল্প প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পশ্চিমবঙ্গের দুটি আসনে (নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর) উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে, ফলাফল ৯ অক্টোবর ঘোষিত হবে
- 📌 নির্বাচন কমিশন জোড়া ফুল প্রতীক স্থগিত করে, দলনাম ও সম্পদ মালিকানার সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে নেওয়া হবে
- 📌 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষের প্রতিনিধি: অরূপ রায়, আমন ঝা, আখতারুজ্জামান, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
- 📌 ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের প্রতিনিধি: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ ও একজন আইনজীবী
- 📌 ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ গঠন করে বিরোধী দলের নেতা হন
📰 বিস্তারিত
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চে গতকাল শুনানির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উভয় পক্ষের পাঁচজন করে মোট ১০ জন প্রতিনিধি শুনানিতে অংশ নেন। প্রথম শুনানি ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হলেও প্রতীক নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে উভয় পক্ষকে অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা ১৬ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। গতকাল সেই নথিপত্র ও বক্তব্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন এবং জোড়া ফুল প্রতীক বেছে নেন। কিন্তু নির্বাচনে বিজেপির বড় জয় ও তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। নেতৃত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পৃথক পক্ষ গঠন করেন। পরে তাঁদের বিরোধী দলের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।
আসন্ন উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
"দলের নাম, প্রতীক, তহবিল ও অন্যান্য সম্পদের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত জোড়া ফুল প্রতীক স্থগিত রাখা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি (শুনানি), পশ্চিমবঙ্গ (উপনির্বাচন আসন: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ অক্টোবর (ভোট), ৯ অক্টোবর (ফলাফল), ১০ জন প্রতিনিধি (শুনানি), ৬৫ জন বিধায়ক (বিরোধী পক্ষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!