📌 চাঁদপুরের টিপুনগরের সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পত্তি থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আদালত নিয়োজিত রিসিভারের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি নিলাম ছাড়াই মাছ বিক্রি করা হয়েছে।
চাঁদপুরের হাইমচরের আলোচিত ‘টিপুনগর’ এলাকায় আদালতের নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পত্তি থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি মেঘনা নদীর পশ্চিমে জেগে ওঠা চরে অবস্থিত মাছের ঘের থেকে জাল ফেলে মাছ ধরা ও বিক্রি করা হয়েছে। তবে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আদালত নিয়োজিত রিসিভার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে মাছ বিক্রির অভিযোগ
- 📌 অভিযোগ অনুসারে, সরকারি নিলাম ছাড়াই কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে
- 📌 টিপুনগরের প্রায় ৪৮ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলছে দীর্ঘদিন ধরে
- 📌 ২০১৯ সালে ছয়টি দলিলের মাধ্যমে জাওয়াদুর রহিম ও তাঁর সহযোগীদের নামে জমি নিবন্ধিত হয়
- 📌 দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে দলিল তৈরির ক্ষেত্রে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে
📰 বিস্তারিত
টিপুনগরের মাছের ঘের থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাছ বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি মেঘনা নদীর পশ্চিমে অবস্থিত চরে অবস্থিত মাছের ঘের থেকে কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে। তবে সরকারি নিয়ম অনুসারে নিলাম বা দরপত্রের মাধ্যমে মাছ বিক্রির প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
টিপুনগরের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০১৯ সালে ছয়টি দলিলের মাধ্যমে চাঁদপুরের হাইমচরের নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচরে অবস্থিত প্রায় ৪৮ একর জমি জাওয়াদুর রহিম ও তাঁর সহযোগীদের নামে নিবন্ধিত হয়। এর আগে ২০২২ সালের মার্চ মাসে প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয় যে, চরটিতে দিয়ারা জরিপ না হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের নামে থাকা জমাবন্দী বা খাজনার রসিদের ভিত্তিতে জমির মালিকানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সময় দলিলে জমির গড় মূল্য দেখানো হয়েছিল শতাংশপ্রতি ৪৬৫ টাকা।
জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে জেলা প্রশাসন আদালতে মামলা করে। পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) অনুসন্ধান চালিয়ে দলিল তৈরির ক্ষেত্রে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পায়। দুদকের অনুসন্ধানে জাওয়াদুর রহিম ছাড়াও তৎকালীন নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সরদার, হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, মুনসুর আহমেদ ও আইনজীবী সাইফুদ্দিন বাবুর নাম আসে।
এই জটিলতার মধ্যেই আদালত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য হাইমচর থানার ওসিকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেন। সেই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সম্পত্তি থেকে মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ও নিলামপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
"আদালতের রিসিভারের দায়িত্বে থাকা সম্পত্তি থেকে মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ও নিলামপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নিলাম ছাড়া মাছ বিক্রি হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাইমচর, চাঁদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, জাওয়াদুর রহিম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮ একর, ৬টি দলিল, শতাংশপ্রতি ৪৬৫ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!