📌 পটুয়াখালীর বঙ্গোপসাগরে জেলে সিদ্দিকুর রহমানের জালে ধরা পড়েছে ৮ কেজি কালো পোয়া মাছ, যা ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণের কারণে মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্কতা দিয়েছেন
পটুয়াখালীর বঙ্গোপসাগরে জেলে সিদ্দিকুর রহমানের জালে আট কেজি ওজনের একটি বিরল কালো পোয়া মাছ ধরা পড়েছে। স্থানীয়ভাবে এই মাছকে ‘কালো দাতিনা’ নামে পরিচিত। গত সোমবার রাতে এফবি মিম ট্রলারের জেলে সিদ্দিকুর রহমান বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলে মাছটি ধরে ফেলেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে একটার দিকে মাছটি আলীপুর মৎস্যবন্দরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে খোলাবাজারে প্রতি কেজি পাঁচ হাজার টাকার দামে মাছটি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পটুয়াখালীর বঙ্গোপসাগরে ৮ কেজি কালো পোয়া মাছ ধরা পড়ে, যা ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়
- 📌 মাছটির ক্রেতা পি এস মুসা বলেন, তিনি আরও বেশি দামে বিক্রি করতে চান — গতকাল ৪ কেজি মাছ ৭২ হাজার টাকায় কিনেছিলেন
- 📌 পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণ মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হুমকির মুখে রেখেছে
- 📌 মাছের বায়ুথলি থেকে প্রসাধনী, ওষুধ ও সুতা তৈরির উপকরণ পাওয়া যায় — ইউরোপে রপ্তানি হয়
- 📌 গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ছিল — এতে জেলেরা আর্থিক লাভ করছে
📰 বিস্তারিত
গতকাল সোমবার রাতে পটুয়াখালীর বঙ্গোপসাগরে এফবি মিম ট্রলারের জেলে সিদ্দিকুর রহমান জাল ফেলে। জালে অন্যান্য মাছের পাশাপাশি ৮ কেজি ওজনের একটি বিরল কালো পোয়া মাছ ধরা পড়ে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে একটার দিকে মাছটি কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর মৎস্যবন্দরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে খোলাবাজারে প্রতি কেজি পাঁচ হাজার টাকার দামে মাছটি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। মাছটির ক্রেতা আলীপুর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী পি এস মুসা বলেন, তিনি আরও বেশি দামে বিক্রি করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, গত বুধবার তিনি ৪ কেজি ওজনের একটি কালো পোয়া মাছ ৭২ হাজার টাকায় কিনেছিলেন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, কালো পোয়া মাছ সর্বোচ্চ ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে বাংলাদেশের উপকূলে সাধারণত ৩৫ সেন্টিমিটারের বেশি আকারে এই মাছ পাওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, ছোট কাঁকড়া, চিংড়ি, মাছ, শামুক-ঝিনুক ও পানির তলদেশের বিভিন্ন সামুদ্রিক কৃমি এই মাছের প্রধান খাদ্য। শক্ত চোয়ালের কারণে খোলসযুক্ত কাঁকড়া ও চিংড়িও সহজে খেতে পারে।
অধ্যাপক রাজীব সরকার জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় পরিবেশদূষণের কারণে মাছটির প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্কতা দেন। তিনি বলেন, সমুদ্র অর্থনীতির বিকাশ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে কালো পোয়ার কৃত্রিম প্রজনন ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা জরুরি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, পোয়া মাছের বায়ুথলি থেকে প্রসাধনী, ওষুধ ও সুতা তৈরির উপকরণ পাওয়া যায়। তিনি জানান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই মাছ রপ্তানি হয়। তিনি আরও বলেন, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। এর সুফল হিসেবে জেলেদের জালে এখন এ ধরনের মাছ তুলনামূলক বেশি ধরা পড়ছে। এতে জেলেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
"জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় পরিবেশদূষণের কারণে মাছটির প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়ছে। সমুদ্র অর্থনীতির বিকাশ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে কালো পোয়ার কৃত্রিম প্রজনন ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটুয়াখালী, বঙ্গোপসাগর, আলীপুর মৎস্যবন্দর, কলাপাড়া উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিদ্দিকুর রহমান, পি এস মুসা, অধ্যাপক রাজীব সরকার, বিজন কুমার নন্দী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ কেজি (মাছের ওজন), ৪০ হাজার টাকা (বিক্রয় মূল্য), ৭২ হাজার টাকা (গতকালের ক্রয় মূল্য), ৯০ সেন্টিমিটার (মাছের সর্বোচ্চ আকার), ৩৫ সেন্টিমিটার (বাংলাদেশে সাধারণ আকার), ৫৮ দিন (মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!