📌 সিলেটে শিশু বিকাশে দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি প্রধান বাধা। গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। সিলেটে শিশুদের ৬৭% সঠিক বিকাশে রয়েছে, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ সর্বনিম্ন ১৩%
সিলেট অঞ্চলে শিশু বিকাশের প্রধান বাধা হিসেবে দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় কম অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্যতা এবং দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ বৃহস্পতিবার সিলেট শহরতলির গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে ‘শিশুর সামগ্রিক বিকাশ কার্যক্রম গতিশীলকরণ: পরিপ্রেক্ষিত সিলেট অঞ্চল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই তথ্য উঠে এসেছে। বৈঠকটি আয়োজন করেছে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ও প্রথম আলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিলেটে শিশু বিকাশে দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা ও যোগাযোগব্যবস্থার ঘাটতি প্রধান বাধা
- 📌 ২ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৬৭% সঠিক বিকাশে রয়েছে, যা জাতীয় হার ৭০.৯%
- 📌 প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ সর্বনিম্ন ১৩% (জাতীয়: ১৬.৬%)
- 📌 ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের খাদ্য দারিদ্র্যের হার ৭২.১% (বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ)
- 📌 হাওরাঞ্চলে বর্ষায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা বাধাগ্রস্ত করে
- 📌 শিশুর প্রথম তিন বছরের মস্তিষ্কের ৮০% বিকাশ হয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় তিন বছর পর
📰 বিস্তারিত
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, শিশু বিকাশে সরকার একা দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। তিনি বিদ্যালয়ে খেলাধুলার জায়গা ও কর্নার তৈরির উদ্যোগের পাশাপাশি প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন সিলেটকে প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে দারিদ্র্যের বাস্তবতা উপেক্ষা করা যাবে না। তিনি বলেছেন, প্রকল্প নেওয়ার সময় স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী হাওরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা ও চা-বাগান এলাকার দারিদ্র্য ও কম মজুরির কারণে শিশু বিকাশে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি হাওরাঞ্চলে বোট ও স্যাটেলাইট ক্লিনিক চালু এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন। উপাচার্য বলেছেন, শিশুর সামগ্রিক বিকাশের বিষয়টি পরিবার ও সমাজে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। গর্ভকাল থেকে আট বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর বিকাশের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে প্রথম তিন বছর গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের এমআইসিএস ২০২৫-এর সূচক অনুযায়ী সিলেটে ২ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৬৭% সঠিক বিকাশের পথে রয়েছে, যা জাতীয় হার ৭০.৯%। তিন থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের হার সিলেটে মাত্র ১৩% — যা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে মাত্র ৭.২% শিশুর বাড়িতে তিনটি বা তার বেশি বই রয়েছে।
"শিশুর জীবনের প্রথম তিন বছরের মধ্যে মস্তিষ্কের ৮০ শতাংশ বিকাশ হয়। কিন্তু প্রচলিত ব্যবস্থায় অনেক সময় তিন বছর বয়সের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শেখানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিশুর প্রাথমিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়টি যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ কমে যায়।"
বিআইজিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সমন্বয়কারী জেমস ওয়ার্ড খকশী বলেছেন, বাংলাদেশে ২০১৩ সালে প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ বিষয়ে নীতিমালা হওয়ার পর চাহিদার দিকটি অনেকটা সংগঠিত হলেও সরবরাহের দিকটি এখনো পুরোপুরি সংগঠিত হয়নি। তিনি আঞ্চলিক তথ্যভান্ডার তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদা সুলতানা সিলেটের শিশুবিষয়ক শহরকেন্দ্রিক উদ্যোগ তৃণমূলেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট শহরতলি, গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল মামুন, জেমস ওয়ার্ড খকশী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৭%, ৭০.৯%, ১৩%, ১৬.৬%, ৭২.১%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!