📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে ডুবে যেতে পারে এবং এক কোটি মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়বে
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আজ অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে আমাদের পদক্ষেপও আরও দ্রুত ও দৃঢ় হতে হবে।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জাতিসংঘে বৈঠকে** প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
- 📌 **বিশ্বব্যাংকের হিসাব** অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের **২৫ সেন্টিমিটার** সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি থেকে **৪ শতাংশ ভূমি** পানিতে ডুবে যেতে পারে, যা **১ কোটি মানুষের** জীবন হুমকির মুখে ফেলবে।
- 📌 **৪টি জরুরি পদক্ষেপের** ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী: বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি ও তথ্য প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
- 📌 **বাংলাদেশের পদক্ষেপ**: ২০ হাজার কিলোমিটার নদী খনন, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য, ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য এবং সবুজ শিল্পের প্রসার।
- 📌 **জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের** অধিবেশনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একাকীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বৈশ্বিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন ছাড়া এটা অসম্ভব।’ তিনি বিশ্বব্যাংকের হিসাব উল্লেখ করে বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে ডুবে যেতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, সাগর তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুধু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’ তিনি বাংলাদেশের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করেছি এবং উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও মজুতের জন্য পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হবে। তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সবুজ প্রবৃদ্ধির পথেও এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
"‘সমুদ্র দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও তার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’ — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ সদর দপ্তর), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ সেন্টিমিটার (সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি), ৪ শতাংশ (বাংলাদেশের ভূমি হুমকির মুখে), ১ কোটি (ব্যথিত মানুষ), ২০ হাজার কিলোমিটার (নদী খনন), ২৫ কোটি (গাছ লাগানোর লক্ষ্য), ২০ শতাংশ (নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ), ১.৫ ডিগ্রি (উষ্ণতা বৃদ্ধির সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!