📌 সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজের দুর্ঘটনায় নয় শ্রমিকের মৃত্যুর পর তদন্তে নেমেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক থেকে সংগৃহীত নমুনায় বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারেননি। তবে ট্যাংকে অতিরিক্ত গ্যাস জমার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন তাঁরা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজে বিষাক্ত গ্যাসে নয় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নেমেছেন বিশেষজ্ঞ দল। তাঁরা দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংক থেকে বাতাস, পানি ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পরীক্ষায় সেখানে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুর্ঘটনার চার দিন পর জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংকে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শূন্য পাওয়া গেছে
- 📌 ট্যাংকে অক্সিজেনের পরিমাণ ছিল ২০ দশমিক ৯ শতাংশ
- 📌 ‘এমটি রাসি’ নামের ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের স্ক্র্যাপ জাহাজে দুর্ঘটনা ঘটে
- 📌 শ্রমিকেরা ট্যাংক কাটতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয় জন মারা যান
📰 বিস্তারিত
গত শুক্রবার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের স্ক্র্যাপ জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটতে গিয়ে নয় শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ঘটনার চার দিন পর মঙ্গলবার তদন্ত দলের সদস্যরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে জাহাজটির দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় প্রবেশ করেন। তাঁরা জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংকসহ বিভিন্ন অংশ থেকে বাতাস, মাটি ও রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করেন।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন জানান, বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার বায়ু, পানি ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তাঁরা আরও জানান, সাধারণত ব্যালাস্ট ট্যাংকে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায় না। তবে এবার বিষাক্ত গ্যাস জমার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন তাঁরা।
আশরাফ উদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় একজন শ্রমিক ট্যাংক কাটার জন্য ভেতরের পানি বের করতে ছিদ্র করলে দুর্গন্ধ বের হয়। এরপর শ্রমিকেরা ট্যাংকটির পানি বেরিয়ে গেছে কি না দেখতে গেলে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। তিনি আরও জানান, ঘটনার চার দিন পর বাতাসে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শূন্য পাওয়া গেছে। গ্যাস জোয়ারের পানিতে দ্রবীভূত হয়ে গেছে বা বাতাসের সঙ্গে মিশে সরে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
"এ ধরনের দুর্ঘটনা জাহাজভাঙা কারখানাতে এবারই প্রথম। সাধারণত ব্যালাস্ট ট্যাংকে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায় না। ট্যাংকগুলো কাটার এক দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। যতটুকু জানা গেছে, একজন শ্রমিক ট্যাংক কাটার জন্য ভেতরের পানি বের করতে একটা ছিদ্র করেন। সেখান থেকে পানির সঙ্গে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। গত শুক্রবার ট্যাংকটির পানি বেরিয়ে গেছে কি না, সেটা দেখতে গিয়ে শ্রমিকেরা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। এতে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আশরাফ উদ্দিন (চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: নয় জন শ্রমিক নিহত, জাহাজের ওজন ৩০ হাজার ৭৭০ টন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!