📌 হাওরের প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদের কল্পিত ময়ূরাক্ষী নদীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন আকরাম হোসেন রিপন। তার তৈরি তরী ময়ূরাক্ষী টাঙ্গুয়ার হাওরে ভাসছে, যেখানে প্রকৃতি ও কল্পনার সৌন্দর্য মিশেছে
টাঙ্গুয়ার হাওরের নীল জলে ভাসমান তরী ময়ূরাক্ষী এক কল্পনার বাস্তবায়ন। এই তরীটি তৈরি করেছেন একজন পাঠক, একজন ভ্রমণপ্রেমী, একজন আলোকচিত্রী — আকরাম হোসেন রিপন। তার স্বপ্নের এই প্রকল্পের শুরু হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের চরিত্র ময়ূরাক্ষী নদীর কল্পনা থেকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাওরের স্বপ্ন: আকরাম হোসেন রিপন ২০১৭ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়ার সময় এক ছেলের গান গাওয়ার দৃশ্যে অনুপ্রাণিত হন এবং মনে করেন, হাওরকে শুধু দেখার চেয়ে তার সঙ্গে নিজের একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।
- 📌 ময়ূরাক্ষীর জন্ম: হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের কল্পিত নদী ময়ূরাক্ষীর নাম দিয়ে তিনি একটি তরী তৈরি করেন, যেখানে প্রকৃতি ও কল্পনার সৌন্দর্য মিশেছে।
- 📌 ৬ মাসের নির্মাণ: তরী ময়ূরাক্ষীর নির্মাণে লেগে যায় প্রায় ছয় মাস। এটি শুধু একটি বোট নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই আরামদায়ক একটি ভাসমান ঘর।
- 📌 পাঠকের স্বপ্ন: আকরামের কাছে ময়ূরাক্ষী নামটি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তিনি নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দেন, কিন্তু তার মূল উৎস হলো পাঠক হিসেবে তার ভালোবাসা।
- 📌 হাওরের অভিজ্ঞতা: তরী ময়ূরাক্ষীতে প্রবেশ করলে বাঁশের ল্যাম্পের আলো শহর থেকে দূরে সরে যাওয়ার অনুভূতি দেয়। এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই একটি অভিজ্ঞতা।
📰 বিস্তারিত
আকরাম হোসেন রিপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ভ্রমণ করতে শুরু করেন — সীতাকুণ্ডের পাহাড় থেকে বান্দরবানের অরণ্য, সাদা পাহাড় থেকে অচেনা পথ। কাঁধে ক্যামেরা নিয়ে তিনি প্রকৃতিকে দেখতেন একজন শখের আলোকচিত্রী হিসেবে। তার ভ্রমণিক পরিচয় ছিল "হন্টক রিপন"। ভ্রমণের প্রতি তার ভালোবাসা থেকেই তিনি জোছনাতরী নামে একটি ভ্রমণগোষ্ঠী গঠন করেন। এই গোষ্ঠীতে তিনি চিকিৎসক কাজী জিনাত আরা রিশার সঙ্গে পরিচিত হন, যিনি তার জীবনের সঙ্গী হয়ে ওঠেন।
আকরামের কৈশোর কাটে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস পড়তে। হিমু, মিসির আলী, রূপা, বাকের ভাই — এই চরিত্রদের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠা। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি সেই কল্পনার পথ ধীরে ধীরে বাস্তব ভ্রমণের পথে রূপান্তরিত করেন। ২০১৭ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে যান। সেখানে তিনি একটি ছেলেকে দেখেন, যিনি নৌকায় বসে মাছ ধরছেন এবং গান গাইছেন। এই সাধারণ দৃশ্য তার মনে অসাধারণভাবে থেকে যায়। সেই মুহূর্তে তিনি অনুভব করেন, হাওরকে শুধু দেখার চেয়ে তার সঙ্গে নিজের একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।
হাওরের প্রকৃতির প্রতি তার ভালোবাসা থেকে শুরু করে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের কল্পিত ময়ূরাক্ষী নদীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দেন, কিন্তু তার মূল উৎস হলো পাঠক হিসেবে তার ভালোবাসা। ময়ূরাক্ষী নামটি তার কাছে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তিনি মনে করেন, এই নামটি তার স্বপ্নের কোনো ঠিকানার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
তিনি ভাবেন, প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই আরামদায়ক একটি অভিজ্ঞতা তৈরি করতে হবে। তাই তিনি তরী ময়ূরাক্ষী তৈরি করেন, যেখানে বাঁশের ল্যাম্পের আলো প্রবেশ করলে মনে হয় শহরটা একটু দূরে সরে গেছে। এই তরীটি শুধু একটি বোট নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই একটি ভাসমান ঘর।
"আমি যখন আকরামের মুখে সেই গল্প শুনছিলাম, মনে হচ্ছিল, কিছু দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে না। সেগুলো মানুষের ভেতরে গিয়ে থেকে যায়। সেই মুহূর্তটিই তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল হাওরের প্রেমে পড়ার মুহূর্ত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গুয়ার হাওর, সুনামগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আকরাম হোসেন রিপন, কাজী জিনাত আরা রিশা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ মাস (তরী নির্মাণের সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!