📌 সাজেকের 'জুম্মা লিবারেশন আর্মি (জেএলএ)' নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি ভাইরাল হলেও ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ছবিগুলো মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চলের সংঘাতের। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আযমীর পোস্টও বানোয়াট প্রমাণিত হয়
রাঙামাটির সাজেক এলাকায় ‘জুম্মা লিবারেশন আর্মি (জেএলএ)’ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ফ্যাক্টচেক করা হয়েছে। দাবির পিছনে ভাইরাল ছবিগুলো মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চলের সংঘাতের পুরোনো ঘটনার চিত্র প্রমাণিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাজেকের 'জেএলএ' নিয়ন্ত্রণ দাবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয় সাজেকের পুরো এলাকা জেএলএ বাহিনীর দখলে রয়েছে।
- 📌 ছবির উৎস মিয়ানমার: ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভাইরাল ছবিগুলো মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চলের সংঘাতের।
- 📌 ব্রিগেডিয়ার আযমীর পোস্টও বানোয়াট: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীর পোস্টে ভারত সরকারের ভূমিকা উল্লেখ করা হলেও তা সত্য নয়।
- 📌 পর্যটকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নেই: সাজেকের নিরাপত্তা বাহিনী ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা হলেও জেএলএ নিয়ন্ত্রণ দাবি সত্য নয়।
📰 বিস্তারিত
রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সাম্প্রতিককালে নিরাপত্তা বাহিনী ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল একটি পোস্টে দাবি করা হয় যে সাজেকের পুরো এলাকা ‘জুম্মা লিবারেশন আর্মি (জেএলএ)’ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পোস্টে দাবি করা হয়, সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
‘Hello Jummo People’s’ নামের ফেসবুক পেজে এই দাবি শেয়ার করা হয়। পোস্টে লেখা হয়, ‘সাজেক এখন ঘন্ডুস মুক্ত। সাজেকের পুরো এলাকা এখন মুক্তিকামী জুম্ম জনতার একমাত্র ভরসাস্থল জেএলএ বাহিনীর দখলে। প্রিয় পর্যটক ভাইয়েরা পাগল হয়ে আর আন্দাজে সাজেকে প্রবেশ করবেন না। যে কোন মুহুর্তে যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে...’
এই পোস্ট শেয়ার করে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী লিখেন, ‘দেশের অখন্ডতা হুমকির মুখে... আমরা কবে জাগবো??? ভারত সরকার তাদের সাবেক সেনাপ্রধানকে সেই অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছে। তারই নেতৃত্বে এসব চলছে। দু’দিন আগেই তারা পর্যটকদের জিম্মি করেছিল। সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধার করেছে...’
ফ্যাক্টচেক অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ভাইরাল পোস্টের ছবিগুলো সাজেকের নয়। চারটি ছবির মধ্যে প্রথম ছবিতে পাহাড়ি ঘাসে ঢাকা খোলা জায়গায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের দেখা যায়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছবিতে সামরিক পোশাক পরা ব্যক্তিদের পাথুরে ঝিরিপথ দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। চতুর্থ ছবিতে গাছের সঙ্গে হেলান দিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।
অনুসন্ধানে ‘Kyaw Zayar’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে গত ২০ আগস্ট শেয়ার করা একটি ছবির ক্যাপশনে লেখা, ‘বাড়ি থেকে দূরে পালিয়ে আসার পর দেখি, রোদও যেন আরও বেশি গরম হয়ে উঠেছে। রাস্তাটাও যেন আরও দীর্ঘ মনে হচ্ছে। খুব ক্লান্ত লাগছে, মা!’ এই ছবির সঙ্গে ভাইরাল পোস্টের প্রথম ছবির মিল রয়েছে।
এই অ্যাকাউন্টে ১২ জুলাই শেয়ার করা আরেকটি ছবির ক্যাপশনে লেখা, ‘একেকজন করে সবাই যখন বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, তা দেখে খুব কষ্ট হয়। আমাদের এই ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রিয় মাতৃভূমিকে নিশ্চিন্তে ছেড়ে চলে যাও। যেদিন আমরা সবকিছু নতুন করে, সবচেয়ে ভালোভাবে গড়ে তুলতে পারব, সেদিন তোমরা আবার ফিরে আসবে, তাই না?’ এই ছবির সঙ্গে ভাইরাল পোস্টের চতুর্থ ছবির মিল রয়েছে।
অনুসন্ধানে একই অ্যাকাউন্টে ২৪ সেপ্টেম্বর শেয়ার করা ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে ভাইরাল পোস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছবির সাদৃশ্য রয়েছে। ‘Kyaw Zayar’ অ্যাকাউন্টের বায়োতে ‘Yebaw Black’ নামের পাশাপাশি মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চলের ‘পাককোকু জেলা ১৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন’-এর উল্লেখ রয়েছে।
"দেশের অখন্ডতা হুমকির মুখে... আমরা কবে জাগবো??? ভারত সরকার তাদের সাবেক সেনাপ্রধানকে সেই অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটির সাজেক, গঙ্গারাম বাজার, মিয়ানমারের মাগওয়ে অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, Kyaw Zayar
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ (আগস্ট), ১২ (জুলাই), ২৪ (সেপ্টেম্বর), ২৯ (সেকেন্ড), ১৪ (নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!