📌 কুয়াকাটার ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের নির্মাণকাজ প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে অনুমোদন ছাড়া নির্মাণের কারণে। জামায়াতের এমপি মাসুদ সাঈদী তত্ত্বাবধানে চলা প্রকল্পে ২১ একর জমিতে হোটেল ও কনভেনশন হল নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয় প্রশাসক ও ইউএনও উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের আইনি অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
কুয়াকাটার পর্যটন কেন্দ্রে জামায়াতের এমপি মাসুদ সাঈদীর তত্ত্বাবধানে চলা ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের নির্মাণকাজ প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে। অনুমোদন ছাড়া নির্মাণের কারণে স্থানীয় প্রশাসন মঙ্গলবার দুপুরে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ জারি করে। নির্মাণস্থলে ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাসুদ সাঈদী তত্ত্বাবধানে কুয়াকাটার ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের নির্মাণকাজ প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে অনুমোদন ছাড়া নির্মাণের কারণে।
- 📌 ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে হোটেল ও কনভেনশন হল নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে এই জমি রেলওয়ে স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে।
- 📌 প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেছেন, অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ আইনানুগ দণ্ডের অধীনে পড়ে। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- 📌 প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লী দাবি করেছেন, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি পেয়েছে, কিন্তু কুয়াকাটা পৌরসভার অনাপত্তিপত্রের পরেও প্রশাসন বাধা সৃষ্টি করছে।
- 📌 মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১ আসনের এমপি) প্রকল্পের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। প্রকল্পের ওয়েবসাইটে তার নাম ও ছবি রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ জারি করে। নির্মাণস্থলে একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, "যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত নির্মাণের কারণে নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, স্থাপনা নির্মাণ আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়াও, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে এই জমি রেলওয়ে স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় এস এ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণ কাজ চলছিল। প্রকল্প এলাকায় ইতিমধ্যে একটি মসজিদ এবং কনভেনশন হলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের জন্য মাত্র পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে শেয়ারের মালিক হওয়ার সুযোগ প্রচার করা হচ্ছে।
মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতের এমপি) প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ওয়েবসাইটে তার নাম ও ছবি চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকাশিত রয়েছে।
"এটি একটি বড় প্রকল্প। আমরা ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়েছি। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরেও ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছি। এমনকি কুয়াকাটা পৌরসভার অনাপত্তিপত্রও পেয়েছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এখানে বড় রাজনৈতিক খেলা রয়েছে।"
মো. মনির মুসুল্লী (প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি) প্রথম আলোকে বলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুয়াকাটা, পটুয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১ এমপি), মো. আরিফুজ্জামান (ইউএনও), মো. ইয়াসীন সাদেক (প্রশাসক), মো. মনির মুসুল্লী (প্রকল্প প্রতিনিধি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ একর ৬৬ শতক জমি, ২৯২ নম্বর খতিয়া, ৫ লাখ টাকা (শেয়ার মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!