📌 চট্টগ্রামের পটিয়ার বটতলার হাট, যা 'রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট' নামে পরিচিত, ছিল গ্রামীণ বাণিজ্যের একটি জীবন্ত কেন্দ্র। আরাকান সড়কের ধারে গড়ে ওঠা এই হাটের স্মৃতি এখনও প্রবীণদের মনে জাগ্রত আছে। হাটের ইতিহাস, বাণিজ্যের ভূমিকা এবং বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আরাকান সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল এক সময়ের জীবন্ত বাণিজ্য কেন্দ্র ‘রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট’। বটগাছের নিচে ছোট ঝুপড়ি, মাটির ঘর, শুঁটকি মটকা, চাল-ডালের দোকান এবং বিকেলের গানের আসর — এই সবের স্মৃতি এখনও প্রবীণদের মনে জাগ্রত আছে। সে হাটের নাম পরে পরিবর্তিত হয়ে ‘থানার হাট’ হয়ে যায়, কিন্তু গ্রামের মানুষের জীবিকা ও বাণিজ্যের ইতিহাস এখনও সেই বটতলায় স্মৃতিচিহ্ন রেখে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের পটিয়ার আরাকান সড়কের বটতলায় গড়ে ওঠা ‘রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট’ ছিল ১৬শ শতাব্দী থেকে ১৭শ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে আরাকান রাজ্যের অধীনে চট্টগ্রামের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র।
- 📌 হাটের চারপাশে ছোট ঝুপড়ি, মাটির ঘর, শুঁটকি মটকা, চাল-ডাল, মাছ-মাংসের দোকান এবং বিকেলের গানের আসর ছিল এই হাটের বৈশিষ্ট্য।
- 📌 ১৯৭৫-৭৬ সালের স্মৃতি থেকে জানা যায়, সোম-শুক্রবার হাটে কেনাবেচা হতো এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের কৃষকরা শঙ্খ নদের পাড় থেকে সবজি নিয়ে আসতেন।
- 📌 হাটের বিস্তারে ভূমিকা রেখেছিল রেলস্টেশন, খালের নৌকা ভেড়া এবং গরুর গাড়ি। পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চকরিয়া থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসতেন।
- 📌 বটগাছের নিচে বিকেলে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গানের আসর হতো, যেখানে শিল্পীরা নাচ-গান করতেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের পটিয়ার আরাকান সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে ছিল এক সময়ের জীবন্ত বাণিজ্য কেন্দ্র ‘রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট’। এই হাটের ইতিহাস শুরু হয় ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত (১৫৮১-১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দ)। সেই সময় চট্টগ্রাম সরাসরি আরাকান রাজাদের অধীনে ছিল। আরাকান সড়ক ছিল চট্টগ্রাম এবং মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের যাতায়াতের প্রধান সড়ক। এই পথের ধারে বটগাছের নিচে গড়ে ওঠা হাটটি ছিল গ্রামীণ বাণিজ্যের একটি জীবন্ত কেন্দ্র।
প্রবীণ শিক্ষক ও বাসিন্দাদের কথায়, সেই বটতলার হাটে ছিল ছোট ছোট ঝুপড়ি, মাটির ঘর, শুঁটকি মটকা, চাল-ডাল, সুপারি আর মাছ-মাংসের দোকান। দিনভর হাঁকডাক, বেচাকেনা এবং গল্পের আসর ছিল এই হাটের বৈশিষ্ট্য। বিকেলে বটগাছের নিচে বসত গানের আসর। হারমোনিয়াম বাজিয়ে গাইতেন শিল্পীরা। সন্ধ্যা নামলেও হাটের আসর সাঙ্গ হতো না। বিক্রেতারা চেরাগ জ্বালিয়ে দিতেন, এবং সেই আলোতে চলতো কেনাবেচা।
হাটের নাম ছিল ‘রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট’। পরে পরিচিতি পায় ‘থানার হাট’ নামে। হাটের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পটিয়ার গ্রামের উৎপাদন, মানুষের প্রয়োজন এবং বহু পরিবারের জীবিকা। কৃষকরা আসতেন ফসল নিয়ে, এবং হাটে পরিচিতজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে এই হাট। হাটের চারপাশে ছিল আরাকান সড়কের গাছপালা আর গ্রামীণ সৌন্দর্য। সাহিত্যিক ও সাংবাদিক দক্ষিণারঞ্জন বসু ‘ছেড়ে আসা গ্রাম’ বইতে লিখেছেন, ‘সুদীর্ঘ আট-দশ হাত চওড়া আরাকান সড়কের দু-ধারে সারবন্দি বড় বড় গাছ—অশ্বত্থ, বট, আম, সোনালু আর গামার। নব কিশলয়ে ফুলে ফুলে তাদের বসন্তশ্রী মনে জাগায় সৃষ্টিকর্তার রস মাধুর্য।’
হাটের বিস্তারে ভূমিকা রেখেছিল রেলস্টেশন, খালের নৌকা ভেড়া এবং গরুর গাড়ি। পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘১৯৭৫-৭৬ সালে আমি স্কুলে পড়তাম। সে সময় বটগাছের নিচেই বসত হাট। সপ্তাহে দুই দিন—সোম ও শুক্রবার। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হতো কেনাবেচা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসত হাটে। শঙ্খ নদের পাড়ে হওয়া সবজি নিয়ে আসতেন কৃষকেরা। জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিকভাবেই কম ছিল।’
"তখন স্কুলে পড়ি। সালটা ১৯৭৫-৭৬। সে সময় বটগাছের নিচেই বসত হাট। সপ্তাহে দুই দিন—সোম ও শুক্রবার। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হতো কেনাবেচা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসত হাটে। শঙ্খ নদের পাড়ে হওয়া সবজি নিয়ে আসতেন কৃষকেরা। জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিকভাবেই ছিল কম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটিয়া, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দক্ষিণারঞ্জন বসু, মো. মিজানুর রহমান
- 📜 উল্লেখযোগ্য ঘটনা: রামসুন্দর মিস্ত্রির হাট → থানার হাট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!