📌 সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের সদস্যরা। গোলটেবিল বৈঠকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ডেটা সেল গঠন, পরিবহন খাতের সমন্বয় ও আন্তর্জাতিক পদ্ধতির অনুসরণের প্রস্তাব করা হয়
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের সদস্যরা। আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন: বর্তমান প্রেক্ষিত ও সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। বৈঠকে সঞ্চালনা ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে** সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানানো হয়েছে গোলটেবিল বৈঠকে
- 📌 **রোড সেফটি ডেটা সেল গঠনের** প্রস্তাব করা হয়েছে দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য
- 📌 **সড়ক, নৌ, রেল ও বিমানপথের পরিকল্পনা একই মন্ত্রণালয়ের আওতায়** নিয়ে আসার প্রস্তাব করা হয়েছে
- 📌 **জাতিসংঘের ‘সেফ সিস্টেম’ পদ্ধতি** অনুসরণের পাশাপাশি চালক প্রশিক্ষণ ও গতিনিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে
- 📌 **সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বাস্তবায়ন পর্যালোচনা** করে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে
- 📌 **৩৩ বছরের অভিজ্ঞতা** নিয়ে নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, সরকারের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন
📰 বিস্তারিত
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা সড়ক দুর্ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়, বরং পরিবহন ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, আইন প্রয়োগ, চালকদের প্রশিক্ষণ, যাত্রী সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের বিষয় জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন। লিটন এরশাদ বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের পরিবর্তে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বৈঠকে সড়ক দুর্ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য কার্যকর ‘রোড সেফটি ডেটা সেল’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা, দুর্ঘটনার কারণ, হতাহতের সংখ্যা, যানবাহনের ধরন, সড়কের অবস্থা ও আইন লঙ্ঘনের তথ্য নিয়মিত বিশ্লেষণ করা গেলে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।
পারিবহন খাতগুলোর মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা সড়ক, নৌ, রেল ও বিমানপথের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে সমন্বিতভাবে পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা ও তুলনামূলক গবেষণার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে জাতিসংঘের ‘সেফ সিস্টেম’ পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি গতিনিয়ন্ত্রণ, চালকদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ, কর্মপরিবেশ, যানবাহনের নিরাপত্তা, পথচারীদের সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান হাবীবুর রহমান, বিআরটিসির চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বুয়েটের অধ্যাপক ও সড়ক বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব ভুঁইয়া, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন্স) মুনতাসিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান প্রমুখ। নিসচার পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনা, অংশীজনদের মতামত তুলে ধরা এবং আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।
"সড়কে নিরাপত্তা জোরদারে নিসচার স্বপ্নদ্রষ্টা ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানাই। গোলটেবিল বৈঠকের সারসংক্ষেপ ও অংশীজনদের মতামতের আলোকে ২০২৭ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়িত হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।"
নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, গত ৩৩ বছর ধরে নিসচা সড়ক নিরাপত্তায় জনসচেতনতা তৈরি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দাবি জানানো এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার কাজ করছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ প্রণয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকারের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লিটন এরশাদ (নিসচার মহাসচিব), ইলিয়াস কাঞ্চন (নিসচার চেয়ারম্যান), হাবীবুর রহমান (বিআরটিএ চেয়ারম্যান), ড. শামসুল হক (বুয়েট অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩ বছর (নিসচার প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!