📌 ৫৩ দিনের অদ্রিজার মা কণিকা মণ্ডলের মৃত্যুতে তিন সন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন অশান্ত মণ্ডল। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন
ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের কণিকা মণ্ডল (৩৫)। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী হারানোর শোকের পাশাপাশি তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন অশান্ত মণ্ডল। মাত্র ৫৩ দিন আগে জন্ম নেওয়া অদ্রিজা এখনও জানেই না তার মা আর নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাত্র ৫৩ দিনের অদ্রিজার মা কণিকা মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে
- 📌 অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা
- 📌 কণিকা মণ্ডল গত ২৯ জুন ফরিদপুরের শমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে অদ্রিজার জন্ম দেন
- 📌 মৃত্যুকালে তাঁর তিন সন্তান ছিল: পার্থ (নবম শ্রেণি), অঙ্কন (তৃতীয় শ্রেণি) ও অদ্রিজা (৫৩ দিন)
- 📌 স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা তুলে দেন
📰 বিস্তারিত
গত ২৯ জুন ফরিদপুরের শমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে অদ্রিজার জন্ম হয়। অপারেশনের পর পরিবারের অভিযোগ, কণিকার পেটে প্রায় দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ৩ জুলাই তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ জুলাই অস্ত্রোপচার করে তাঁর পেট থেকে গজ বের করা হয়। তবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর জীবনযুদ্ধ থেমে যায়।
কণিকার মৃত্যুতে অশান্ত মণ্ডল শুধু যে তাঁর স্ত্রীকে হারিয়েছেন, তা নয়। তিন সন্তানও হারিয়েছে তাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। বড় ছেলে পার্থ মণ্ডল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী, মেজো ছেলে অঙ্কন মণ্ডল তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তারা দুজনই মাকে দেখেছে, মায়ের স্নেহ-শাসনে বড় হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে তাদের প্রতিটি দিন কাটবে মায়ের শূন্যতা নিয়ে। আর মাত্র ৫৩ দিনের অদ্রিজা জানেই না, যে মানুষটির বুকের উষ্ণতায় তার ঘুমিয়ে পড়ার কথা, সেই মা আর কোনো দিন তাকে কোলে নেবেন না।
স্ত্রী হারানোর শোকের সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে ভবিষ্যতের চিন্তায় ভেঙে পড়েছেন অশান্ত মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘আমি এখন দুই মাসের সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচব? এই ছোট ছোট ছেলে-মেয়েগুলো নিয়ে অথই সাগরে পড়ে গেলাম। আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে, জানি না। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
‘আমি এখন দুই মাসের সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচব? এই ছোট ছোট ছেলে-মেয়েগুলো নিয়ে অথই সাগরে পড়ে গেলাম। আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে, জানি না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কল্যাণপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অশান্ত মণ্ডল, কণিকা মণ্ডল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩ দিন, ৩৫ বছর, ৫০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!