📌 পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় অভিযোগের তীব্রতা বেড়েছে। সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তিন কর্মচারী হলেন আল আমিন লাবু, হারুন অর-রশীদ এবং আবু সোয়েব
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি ফি দিয়েও ভূমিসেবা পাওয়ার পরিবর্তে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জমির নামজারি, কাগজপত্র যাচাই ও শুনানির তারিখ নির্ধারণসহ বিভিন্ন সেবায় জমির পরিমাণ ও ধরনের ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পঞ্চগড় বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারী (আল আমিন লাবু, হারুন অর-রশীদ, আবু সোয়েব) বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে
- 📌 জমির নামজারির জন্য ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগে সার্ভেয়ার আবু সোয়েবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে
- 📌 নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এক হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ
- 📌 অভিযুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে আল আমিন লাবু ফোন বন্ধ রাখায় যোগাযোগ করা যায়নি
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেছেন, অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমিসেবা নেওয়ার সময় সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগে তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রোশ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জমির নামজারির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনায় পাঁচ হাজার টাকা বা তার বেশি দাবি করা হয়। এ টাকা সরাসরি না নিয়ে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, নামজারির বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে তিন হাজার থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। আর নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এক হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
ভূমিসেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সেবাপ্রার্থীরা, অন্যদিকে বাড়ছে ভোগান্তি। প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বাধ্য হয়ে অনেকে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ। তবে অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার আবু সোয়েব বলেছেন, ‘আমি সপ্তাহে এক-দুই দিন বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে যাই। সহকারী কমিশনার (ভূমি) যেসব কাগজপত্র বাতিল করেন বা যে সিদ্ধান্ত দেন, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ কারও কাছ থেকে টাকা নিলে, সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।’
অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, তাই ঘুষ নেওয়ার সুযোগ নেই।’ অন্যদিকে, ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবুর বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম বলেছেন, ‘উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের কিছু ভিডিও ও ছবি দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
"আমি সপ্তাহে এক-দুই দিন বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে যাই। সহকারী কমিশনার (ভূমি) যেসব কাগজপত্র বাতিল করেন বা যে সিদ্ধান্ত দেন, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বোদা উপজেলা ভূমি অফিস, পঞ্চগড়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আল আমিন লাবু, হারুন অর-রশীদ, আবু সোয়েব, মো. রবিউল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকা, ৩ হাজার টাকা, ১০ হাজার টাকা, ১ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!