📌 নওগাঁ সদর উপজেলার আইনজীবীর সহকারী যুবক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করেন। শ্যালিকাকে বিয়ে করার কারণে এলাকাবাসী তাকে মারধর করে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করে। ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক নেওয়ার ঘোষণা দেন যুবক
নওগাঁ সদর উপজেলার আইনজীবীর সহকারী যুবক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করার কারণে এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন। বুধবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চেয়ে তিনি ঘোষণা দেন, দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন। ইসলামে একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান না থাকা সত্ত্বেও তিনি জানতেন না এই বিষয়টি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করেন নওগাঁ সদর উপজেলার আইনজীবীর সহকারী যুবক।
- 📌 গ্রামছাড়া ও মারধর করার পর যুবক ও তার পরিবার মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।
- 📌 ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চেয়ে যুবক ঘোষণা করেন, দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন।
- 📌 তালাক কার্যকর হবে তিন মাস পর। নোটিশের একটি কপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হবে।
- 📌 ইসলামে একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করা যায় না—এ বিষয়ে যুবক জানতেন না।
📰 বিস্তারিত
নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা ও নওগাঁ আদালতের আইনজীবীর সহকারী যুবক প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় ২৫ অক্টোবর তার ছোট বোনকে বিয়ে করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর এলাকাবাসীর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করার বিষয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে এই বিয়ে হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে তিনি এবং তার পরিবার বদলগাছী উপজেলার ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর মারধর ও চুনকালি মাখিয়ে গ্রামছাড়া করার পর তারা মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।
মঙ্গলবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চেয়ে যুবক বলেন, ‘আমরা যে ভুল করেছি, সেটা নিয়ে ইসলামের ওপর প্রভাব পড়েছিল। সেইটা আমরা অলরেডি সমাধান করেছি।’ তিনি ঘোষণা দেন, দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন। তালাকের নোটিশের একটি কপি তিনি তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন। নোটিশে স্বাক্ষরকারী কাজী সামিদুল ইসলাম জানান, মেয়ের ও অভিভাবকদের সম্মতিতে তালাকের নোটিশ জারি করা হয়েছে। তালাক কার্যকর হবে তিন মাস পর।
শ্বশুর প্রথম আলোকে বলেন, বিয়েতে বড় মেয়েরও সম্মতি ছিল। কিন্তু একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করা যায় না—বিষয়টি তাঁরা জানতেন না। ফেসবুকে জানাজানির পর এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত হয় এবং তাঁরা মারধর ও লাঞ্ছিত হন। মঙ্গলবার বিকেলে সালিসে সবার সামনে ছোট মেয়ে স্বামীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন। ওই বিষয়ে এলাকার লোকজন মেয়ের কাছ থেকে স্টাম্পে সই নেন।
"আমি ভুল করে শিক্ষা নিয়েছি। ভবিষ্যতে আমার মতো আর কেউ না বুঝে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওগাঁ সদর উপজেলা, মহাদেবপুর উপজেলা, বদলগাছী উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: যুবক (আইনজীবীর সহকারী), দ্বিতীয় স্ত্রী, কাজী সামিদুল ইসলাম, শ্বশুর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!