📌 মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দানের পর মানিক পশারীকে ২০২৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়। কিন্তু এই স্বীকৃতির পেছনে টাকার লোভের অভিযোগ ও সাঈদীকে 'ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা' বলে দাবি করা হচ্ছে। মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের বিষয়েও বিতর্ক চলছে
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দানের পর ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় গেজেটভুক্ত হন মানিক পশারী। এই সিদ্ধান্তের পেছনে টাকার লোভের অভিযোগ উঠেছে। মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, সাক্ষ্য দানের বিনিময়ে তাকে পুরস্কারস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই স্বীকৃতির বৈধতা নিয়ে বিতর্ক চলছে, বিশেষ করে সাঈদীকে 'ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা' বলে দাবি করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় গেজেটভুক্ত হন মানিক পশারী, যিনি ২০১১ সালের ২৮ ডিসেম্বর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
- 📌 মানিক পশারীর মৃত্যুর পর (২৪ অক্টোবর) তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
- 📌 পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন ও মির্জা জহিরুল হক দাবি করেছেন, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল সাক্ষ্য দানের বিনিময়ে।
- 📌 মানিক পশারীর ছোট ভাই চাঁন মিয়া পশারী ও বোন হাসিনা বেগম দাবি করেছেন, তাদের বড় ভাইকে টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
- 📌 মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী জানান, সাক্ষ্য দানের সময় তিনি খুলনায় ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি।
📰 বিস্তারিত
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দানের পর মানিক পশারীকে ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় গেজেটভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে টাকার লোভের অভিযোগ উঠেছে। মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, সাক্ষ্য দানের বিনিময়ে তাকে পুরস্কারস্বরূপ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
গত ২৪ অক্টোবর মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই সময় পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন ও মির্জা জহিরুল হক দাবি করেছেন, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তারা বলেছেন, সাক্ষ্য দানের বিনিময়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেনের দাবি, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে ছিলেন না এবং তিনি রাজাকারও ছিলেন না। তিনি আরও বলেছেন, ‘মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় প্রশাসন তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিতে বাধ্য হয়েছে’।
অপরদিকে, মানিক পশারীর ছোট ভাই চাঁন মিয়া পশারী দাবি করেছেন, তাদের বড় ভাইকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তাকে ও তার বড় ভাই মানিক পশারীকে টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল’। তিনি আরও জানান, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন না। সে সময় সাঈদী অনেক ছোট ছিলেন। রাজাকার ছিলেন রামেশ মোল্লা, মোসলেম মাওলানা ও সেকেন্দার শিকদার’।
মানিক পশারীর বোন হাসিনা বেগম জানান, ‘আমার ভাইকে অনেক অনেক টাকা দিয়েছে। টাকার বন্যা বয়ে গেছে’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি কিছু জানি না, আমার ভাই জানে’।
মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী জানান, সাক্ষ্য দানের সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি খুলনায় ছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি’।
"মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় প্রশাসন তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিতে বাধ্য হয়েছে।"
"আমার ভাইকে অনেক অনেক টাকা দিয়েছে। টাকার বন্যা বয়ে গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পিরোজপুর সদর উপজেলা, শংকরপাশা ইউনিয়ন (চিতলিয়া গ্রাম), খুলনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মানিক পশারী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আব্দুস সালাম বাতেন, মির্জা জহিরুল হক, চাঁন মিয়া পশারী, হাসিনা বেগম, হেনা পশারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ২৮ ডিসেম্বর ২০১১, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!