📌 বাগেরহাটের চিতলমারীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে ৩৫০ শিক্ষার্থী আতঙ্কিত। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় কুকুরগুলো মাঠে ঢুকে শিক্ষার্থীদের আক্রমণ করে। ইতিমধ্যে এক শিশু আহত হয়েছে
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে ৩৫০ শিক্ষার্থী আতঙ্কিত। সকালে বিদ্যালয়ে আসার সময় কুকুরগুলো শিক্ষার্থীদের আক্রমণ করে, যার ফলে এক শিশু আহত হয়েছে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাগেরহাটের চিতলমারীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন ৩৫০ শিক্ষার্থী বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে আতঙ্কিত
- 📌 কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে শিক্ষার্থী আহাদ শেখ, বর্তমানে চিকিৎসাধীন
- 📌 বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ না থাকায় কুকুরগুলো মাঠে ঢুকে শিক্ষার্থীদের আক্রমণ করে
- 📌 শিক্ষক ও অভিভাবকরা দাবি করছেন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও কুকুর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার
- 📌 উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেছেন, খাবারের অভাবের কারণে কুকুরের আক্রমণ বেড়েছে
📰 বিস্তারিত
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন সকালে বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠে প্রতিদিন জড়ো হয় অর্ধশতাধিক কুকুর, যারা শিক্ষার্থীদের দেখলেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে রাস্তায় লোকজন কম থাকায় কুকুরগুলো তাদের ওপর আক্রমণ করে।
শিক্ষার্থী আহাদ শেখের মা জান্নাতি আক্তার বলেছেন, ‘শিক্ষার্থী আহাদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কুকুরগুলো আক্রমণ করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের জখম হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।’ অন্য এক অভিভাবক জোসনা বেগম বলেছেন, ‘আমি সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কিত থাকতে হয়। অনেকেই সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসতে বাধ্য হন। এভাবে কত দিন চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’
আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের বাসিন্দা মোহন খান জানান, ‘আমার চোখের সামনে একটি মেয়েকে কুকুরগুলো তাড়া করে। ভয়ে পালাতে গিয়ে মেয়েটি রাস্তায় পড়ে যায়। পরে কুকুরগুলো তার ওপর আক্রমণ করে। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।’
শিক্ষিকা মানছুরা আক্তার বলেছেন, ‘উপজেলায় আমাদের বিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু সীমানাপ্রাচীর না থাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।’ প্রধান শিক্ষক মহিতুল ইসলাম বলেছেন, ‘কুকুরের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকেই সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
"সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকতে পারছেন না। কুকুরের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।"
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহমেদ ইকবাল বলেছেন, ‘বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও খাবারের পর্যাপ্ত জোগান নেই। আগে বিভিন্ন জায়গায় খাবার পেলেও এখন তা কমে গেছে। এ কারণেও কুকুরের আক্রমণ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকতে পারত।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা, এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আহাদ শেখের মা জান্নাতি আক্তার, অভিভাবক জোসনা বেগম, শিক্ষিকা মানছুরা আক্তার, প্রধান শিক্ষক মহিতুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আহমেদ ইকবাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫০ শিক্ষার্থী আতঙ্কিত, ৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী, ৩৫০ জন শিক্ষার্থী, ১ জন আহত শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!