📌 সাতক্ষীরার মাঝিয়াড়া গ্রামে পাল সম্প্রদায়ের কারিগররা আধুনিক মেশিনের সাহায্যে মাটির থালা, বাটি ও ফুলদানি তৈরি করছেন। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৬০০-এরও বেশি পালকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় ফিরে আসার জন্য।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাঝিয়াড়া গ্রামে পাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আবার ফিরে এসেছে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে। এখানে তৈরি হচ্ছে নান্দনিক মাটির থালা, বাটি, কাপ-পিরিচ, মগ, ফুলদানি ও টেরাকোটাসহ বিভিন্ন পণ্য। গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রথম আলো দেখে যে দৃশ্য, তা মাটির তৈজসপত্রের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে। কারখানাজুড়ে নকশা করা পণ্য শুকানো হচ্ছে, কিছু পোড়ানোর জন্য চুল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাতক্ষীরার মাঝিয়াড়া গ্রামে পাল সম্প্রদায়ের কারিগররা আধুনিক মেশিনে মাটির পণ্য তৈরি করছেন
- 📌 ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে পণ্য পোড়াতে, প্রথমে ‘তাওনা’ নামে হালকা আগুন দেওয়া হয়
- 📌 বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০০-এরও বেশি পালকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এই পেশায় ফিরে আসার জন্য
- 📌 পণ্যগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হচ্ছে এবং বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে
- 📌 কারিগরদের মজুরি পণ্য বিক্রির আয় ও লভ্যাংশ থেকে দেওয়া হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
মাঝিয়াড়া গ্রামের কারখানায় প্রথম আলো দেখতে গেলে দেখা যায়, কারিগররা আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে মাটির থালা, বাটি, কাপ-পিরিচ, মগ, জগ, বোতল, ফুলদানি, ফুলের টব ও টেরাকোটাস তৈরি করছেন। উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রযুক্তিগত সহায়তায় এই কার্যক্রম চলছে। কারুশিল্পী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এই জিগার মেশিনে ছয়টি যন্ত্র আছে। আমি তিন বছর ধরে এখানে কাজ করি এবং সব কাজ শিখে গেছি।’
কারিগরদের ভাষ্য, খালবিল থেকে সংগ্রহ করা মাটি মেশিনে ছেঁকে ছোট ছোট দলায় পরিণত হয়। এরপর ছাঁচে বসিয়ে জিগার মেশিনে ঘুরিয়ে নির্দিষ্ট আকৃতির পাত্র তৈরি করা হয়। শুকানোর পর পণ্যগুলোতে রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়। মৃৎশিল্পী নমিতা পাল বলেন, ‘আগে হাতে মাটি প্রস্তুত করতাম, এখন মেশিনে করছি। বিভিন্ন ডিজাইনের ছাঁচে পণ্য উৎপাদনে সময় কম লাগে এবং ফিনিশিং ভালো হচ্ছে।’
কারখানার মাঠে ঘাস কাটতে আসা স্থানীয় আবুল কাশেম সরদার বলেন, ‘মাটির থালা-বাটি বানাতেও মেশিনের সাহায্য নেওয়া হয়, এটা আগে কল্পনাও করিনি। পাল বংশের লোকজন আগে হাতে তৈরি করত, এখন মেশিনে আরও সুন্দর হচ্ছে।’
কারখানার চত্বরে মাটি ও ইট দিয়ে তৈরি বড় গোলাকার চুল্লিতে পণ্য পোড়ানো হয়। কর্মীরা বলেন, শুকনো পণ্য চুল্লিতে সাজানোর পর পরদিন সকালে হালকা আগুন দেওয়া হয়। পরে ধীরে ধীরে তাপ বাড়ানো হয়। সব মিলিয়ে পণ্য পোড়াতে সময় লাগে ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা।
"আধুনিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন ও বিপণন করতে না পারায় পাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পেশাটি হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন আধুনিক মেশিন ও ছাঁচে নানা ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে।"
উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রচেষ্টার সার্বিক ব্যবস্থাপনা করেন চন্দ্র শেখর দাশ। তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় এসব পণ্য যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাঝিয়াড়া গ্রাম, সাতক্ষীরার তালা উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কামরুল ইসলাম, নমিতা পাল, ললিতা পাল, চন্দ্র শেখর দাশ, শেখ ইয়াকুব আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০০ (পালকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে), ৯-১২ ঘণ্টা (পণ্য পোড়াতে সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!